সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার ২৯৪ কেন্দ্রের মধ্যে গোটা দেশের নজরে চলে এসেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। যাবতীয় হিসেব উল্টে দিয়ে কলকাতা থেকে ছুটে গিয়ে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিতর্কিত গণনায় শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির টিকিটে নন্দীগ্রামের বিধায়ক হলেও আজও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা ইলেকশন পিটিশনের শুনানি স্থগিত হয়ে পড়ে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
তবে এর মধ্যেই আবার নতুন করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হলো। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের টিকিটে লড়তে পারেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে নাকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লড়তে পারেন বিধানসভা নির্বাচনে। আর বিধানসভা নির্বাচনে জিতে এ নাকি উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসতে পারেন অভিষেক। এমন এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলো কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যে।
বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, ‘আমার কাছে খবর আছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের বিধানসভায় দাঁড়াচ্ছেন। সেই জন্যই নিজের ঘনিষ্ঠ পুলিশ অফিসারদের ওই জেলাতে বদলি করা হচ্ছে। উপমুখ্যমন্ত্রী হতে খুব শখ, তাই নন্দীগ্রাম থেকেই লড়বেন।’
পরে অবশ্য নিজের মন্তব্যের পরিস্কার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা ঠিক করেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানেই দাঁড়াবেন, সেখানেই হারাব।’
অন্যদিকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য আরও তির্যক। তাঁর দাবি, ‘ও এখানে দাঁড়ালেও ওকে কেউ ভোট দেবে না।’
তৃণমূল অবশ্য সুকান্তের দাবি উড়িয়ে পাল্টা কটাক্ষ শানিয়েছে। দলের লোকজন বলাবলি করছে, লোকসভা ভোটের পর থেকেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অপছন্দের তালিকায় শুভেন্দু। নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েতেও তৃণমূল জিতেছে। সেই আসন ধরে রাখাই এখন শুভেন্দুর বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে অভিষেক-মমতাকে লাগবে না। একজন বুথস্তরের তৃণমূল প্রার্থী জিতবে।’
তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব লোকসভার ফলের পর শুভেন্দুকে অপছন্দের তালিকায় ফেলে দিয়েছেন। তাই নন্দীগ্রামের বুকে পঞ্চায়েতেও তৃণমূল জিতেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর অধিকারীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আসন ধরে রাখা। আর ওইখানে অভিষেক-মমতাকে লাগবে না। একজন বুথস্তরের তৃণমূল নেতাও জিতে যাবেন।”
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সুকান্তের বক্তব্যে নতুন করে জল্পনা উস্কে উঠেছে। কারণ অতীতে এরকম নজির রয়েছে।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর রেলমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছ’মাস পর ভবানীপুরে উপনির্বাচনে লড়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীও এক সময় সাংসদ পদ ছেড়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন।

সেই সূত্র ধরেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এবার অভিষেকও নন্দীগ্রামকে বেছে নিতে পারেন? রাজনৈতিক মহল বলছে, জল্পনার আগুন আরও খানিকটা বাড়িয়েই দিলেন সুকান্ত।