সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ চলছে। বৃহস্পতিবারই এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। সেই সময়সীমা কী বাড়বে? তা নিয়ে কৌতুহল ছিল। শেষপর্যন্ত দিন শেষের আগেই ছয় রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ল কমিশন। যদিও সেই তালিকায় বাংলার নাম নেই! এসআইআর-এর সময়সীমা পাঁচটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এই সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পর্ব এক সপ্তাহ বেশি চলবে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সংশোধিত তারিখগুলো হল- তামিলনাড়ু ও গুজরাটের জন্য ১৯ ডিসেম্বর। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের জন্য ২৩ ডিসেম্বর, এবং উত্তর প্রদেশের জন্য ৩১ ডিসেম্বর। তবে সেই তালিকায় নেই পশ্চিমবঙ্গ। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ শেষ করার সময়সীমা বৃদ্ধি করেনি কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের সিইও দফতর সূত্রে খবর, এ রাজ্যে যে ভাবে এসআইআরের কাজ এগিয়েছে তাতে অতিরিক্ত সময় লাগবে না। তারা জানিয়েছে, এসআইআরের এর মূল কাজ পশ্চিমবঙ্গে প্রায় শেষ। তা ছাড়া সামনেই বিধানসভা ভোট রয়েছে। তাই অতিরিক্ত সময় নেওয়া হবে না। কমিশনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে এ রাজ্যে। সে কারণে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি পশ্চিমবঙ্গকে।
গোয়া, লাক্ষাদ্বীপ, রাজস্থান এবং পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা আজই শেষ হয়েছে হচ্ছে। কমিশনের এ দিনের নির্দেশের পর তা স্পষ্ট হয়েছে। উল্লেখ্য, এনুমারেশন ফর্ম জমার ক্ষেত্রে কেরলকে আগেই বাড়তি সময় দিয়েছিল কমিশন।
কমিশন শুরুতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল যে, ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৪ ডিসেম্বর এনুমারেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তার পর সেই সময়সীমা আরও সাত দিন বাড়িয়ে দেয় কমিশন। সেই সময়সীমা ১১ ডিসেম্বর অর্থাৎ আজই শেষ হচ্ছে। এর আগে কমিশন জানিয়েছিল, এই কাজ শেষ করতে রাজ্যগুলিতে আর বাড়তি সময় প্রয়োজন কি না। তারপর এ দিন পাঁচ রাজ্য ও একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়ার দিন বাড়ল কমিশন।
অন্যদিকে, ফর্ম ফিলআপ ও সংগ্রহের শেষ দিন ১১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। নির্ধারিত সময়সীমার আগে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতরে। ডিজিটাইজ়েশন প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ হলেও সেল্ফ ম্যাপিং ও প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের হার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতেই এই ফারাক সবচেয়ে প্রকট বলে জানাচ্ছে কমিশন। তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রোজেনি ম্যাপিং হয়েছে ৩৮,৪৮,৫১৬৬ জনের— যা মোটের ৫০.২২ শতাংশ। বিপরীতে সেল্ফ ম্যাপিং হয়েছে ২৯,৩৫,২৮৯৩ জনের, অর্থাৎ মাত্র ৩৮.৩ শতাংশ। এই বৈষম্যের কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের নতুন স্পেশাল রোল অবজ়ারভারদের বিশেষভাবে নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল।

২০০২–এর ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজের বা বাবা–মায়ের লিঙ্কেজ দেখাতে না পারলে, দাদা–দাদি বা ঠাকুরদা–ঠাকুমার সঙ্গে লিঙ্কেজ দেখানোর সুযোগ দেয় প্রোজেনি ম্যাপিং প্রক্রিয়া। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এই প্রোজেনি ভোটারদের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তা কমিশনের দুশ্চিন্তা আরও বাড়াচ্ছে। কমিশনের একাংশের মতে, অনুপ্রবেশ ঘটলে প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের হার অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। পাশাপাশি, পিতা–পুত্র বা প্রপিতামহের বয়সের বৈষম্য নিয়েও মাথাব্যথা রয়েছে কমিশনের। কমিশন সূত্রে খবর, নো–ম্যাপিং এর তালিকায় রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে কলকাতা।