শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘বিজিবিএসের ঢাকঢোল পিটিয়ে রাজ্যবাসীকে বারবার বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শেষ শিল্প বাণিজ্য সম্মেলনের ঠিক আগের দিন এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, ‘যেটুকু বিনিয়োগ হয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগেই সম্ভব হয়েছে—মুদ্রা যোজনার মতো প্রকল্প, কিংবা রেল, হাইওয়ে, বন্দর, বিমানবন্দর সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বিনিয়োগের জন্য।’
বুধবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ করল বিজেপি। একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে গত আটটি বিজিবিএস ঘিরে ঘোষিত বিনিয়োগ ও বাস্তব চিত্রের তুল্যমূল্য হিসাব তুলে ধরেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপির দাবি, যে সামান্য বিনিয়োগ হয়েছে তা মূলত এমএসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে। ভারী শিল্প বা তার অনুসারী শিল্পে কোনও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ বড় শিল্প। অথচ তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে মূলত ফলের জুস, খাদ্যপণ্য জাতীয় শিল্পেই বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ।
বিজেপির দাবি, ২০১৫ থেকে ২০২৪, এই সময়কালে মোট ২০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা এবং প্রায় ৮০০টি মৌ (মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সাক্ষরের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার রূপায়ণ ‘নগণ্য’। কর্মসংস্থান তৈরির যে বিপুল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তারও কোনও প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ।
শমীক-শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০১৫ সালে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে ৯০টি মৌ সাক্ষরিত হয়, ঘোষিত বিনিয়োগ ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি। ২০১৭ সালে ১১০টি মৌ ও ২ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি, ২০১৮ সালে ১৩৭টি মৌ ও ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯ সালে ৮৬টি মৌ-সহ ২ লক্ষ ৮৪ হাজার কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ২০২২ সালে ৩ লক্ষ ৪২ হাজার কোটি, ২০২৩ সালে ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি ও ১৮৮টি মৌ, আর ২০২৪ সালে ৪ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু এত মৌ সাক্ষরিত হলেও অধিকাংশই কার্যকর হয়নি বলে বিজেপির অভিযোগ। উল্টে বাণিজ্য সম্মেলনের খরচ ক্রমেই বেড়েছে—২০১৬ সালে যেখানে খরচ ছিল ৩০ কোটি টাকা, ২০১৭-তে ৩৫ কোটি, ২০১৮-তে ৪০ কোটি, ২০১৯-এ ৪৫ কোটি, ২০২৩-এ ৫০ কোটি এবং ২০২৪-এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ কোটি। শমীক-শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘৫০০ কোটির বেশি খরচ করেও রাজ্যে বড় শিল্পে বিনিয়োগ শূন্য।’
কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু এও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ভারাক্রান্ত। তাই এ বছর নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ২০০ কোটি টাকা খরচ না করে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বিজিবিএস করা হচ্ছে। যিনি বলেন, ‘বাংলাকে গুজরাট হতে দেব না’, তিনি একবার গুজরাট-মহারাষ্ট্রের আর্থিক অবস্থার দিকে তাকান।’
আর শমীক ভট্টাচার্যের হুঙ্কার, ‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর বিজেপির সরকার হবেই, ২০২৬-এর নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন নিশ্চিত।’