সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘এসএসসি নিয়োগে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ওএমআর সিট পাবলিশ করতে হবে।’ ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাওয়া ২৬ হাজার চাকরি ছাঁটাইয়ের পরে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার নিয়োগ শুরুর আগেই তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। পাশাপাশি ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণর পর যাঁরা নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন তাঁদের তালিকাও তলব করলেন বিচারপতি।
ওয়েবসাইটে ওএমআর পাবলিশ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
বুধবারই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় এসএসসি সংক্রান্ত সব মামলা শুনবে কলকাতা হাই কোর্ট। আজ, বৃহস্পতিবার মামলা ওঠে হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। সেখানে, বিচারপতি নির্দেশ দেন ২০২৫ সালের নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার সব ওএমআর শিট প্রকাশ করতে হবে। এসএসসির আইনজীবীকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা ওএমআর আপলোড করেননি কেন? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিয়োগ হচ্ছে। প্রথম দিন থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করা উচিত। নাহলে পরে আবার অনিয়মের অভিযোগ উঠবে।’
প্রসঙ্গত, নতুন পরীক্ষার্থীদের জন্য যেন চাকরিহারা যোগ্যদের কোনও বিপদ না হয়, সেদিকে নজর রাখতে সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে গতকাল। চিহ্নিত অযোগ্যরা কোনও ভাবেই নতুন পরীক্ষায় বসতে পারবে না বলে ফের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অযোগ্য বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন প্রার্থী, অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া নিয়ে মামলা সহ এসএসসি নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্ত মামলা কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, সম্পূর্ণ তথ্যসহ চিহ্নিত অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বুধবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, ‘আমরা একবারের জন্যও বলেনি যে, নতুন পরীক্ষায় ফ্রেশারদের ইনক্লুড করতে।’
অন্যদিকে, পূর্বে প্যানেলের মেয়াদ শেষে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের নাম এবং ওএমআর-ও আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকা তলব করেছেন। এই তালিকায় নাম রয়েছে অথচ ২০২৫-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন, এমন চাকরিপ্রার্থীদের ভাগ্য নির্ভর করবে এই মামলার ভবিষ্যতের উপরে। এমনটাই পর্যবেক্ষণ বিচারপতির। এদিনই এই সংক্রান্ত মামলায় আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তাঁর এজলাসে শুনানির সময়ে এক আইনজীবী নথি যাচাইয়ে তাড়া দেন। তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেই বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘পরীক্ষার ভবিষ্যৎ কী কেউ জানে না, আর আপনি নথি যাচাই নিয়েই ব্যস্ত!’ ওই আইনজীবী শুক্রবারই শুনানির জন্য বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। বারবার বলতে থাকেন, খুব তাড়াতাড়ি নথি যাচাই শুরু হবে। ফলে শুক্রবারই যেন এসএসসি সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে একত্রে এই মামলার শুনানি করা হয়। সেই প্রেক্ষিতেই এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি সিনহা।