রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
মুম্বইয়ে এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর অবশেষে সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন বলিউড অভিনেত্রী ও পারফর্মার নোরা ফাতেহি। শনিবার দুপুরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা নোরার জীবনের অন্যতম ভয়ঙ্কর মুহূর্ত বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তায় তিনি যেমন নিজের শারীরিক অবস্থার আপডেট দিয়েছেন, তেমনই জোরালো ভাষায় নিন্দা করেছেন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর প্রবণতাকে।
ঘটনাটি ঘটে যখন নোরা মুম্বই থেকে সানবার্ন ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ই অভিযোগ, এক মদ্যপ চালকের গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে তাঁর গাড়িতে। প্রচণ্ড সংঘর্ষে গাড়ির ভেতরেই ছিটকে যান নোরা। দুর্ঘটনার পরপরই তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন এবং পরে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অনুরাগীদের উদ্দেশে নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে নোরা বলেন, “আমি সবাইকে জানাতে চাই যে আমি এখন নিরাপদ। শনিবার দুপুরে আমি একটি খুব গুরুতর গাড়ি দুর্ঘটনার মধ্যে পড়েছিলাম। একজন মদ্যপ ব্যক্তি গাড়ি চালাচ্ছিল এবং সে আমার গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটা এতটাই তীব্র ছিল যে আমি গাড়ির ভেতর ছিটকে পড়ি এবং জানালায় মাথায় আঘাত লাগে।”
এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নোরার গলায় স্পষ্ট আতঙ্ক ধরা পড়ে। তিনি জানান, দুর্ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ও ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যেতে পারত। যদিও সৌভাগ্যবশত প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি।
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে নোরা বলেন, “আমি বেঁচে আছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। কিছুটা ফোলা, ব্যথা আর হালকা কনকাশন হয়েছে, কিন্তু তার বাইরে আমি ঠিক আছি। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।” শারীরিক আঘাত তুলনামূলকভাবে কম হলেও, মানসিক আঘাত যে এখনও তাঁকে তাড়া করছে, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।
এই ঘটনার পর নোরা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করেন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার জন্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তাঁর কথায়, “এই ঘটনা ভয়াবহভাবে শেষ হতে পারত। এটাই প্রমাণ করে কেন কখনওই মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো উচিত নয়। আমি এমনিতেই অ্যালকোহল পছন্দ করি না। এমন কোনও জিনিস আমি সমর্থন করি না যা মানুষের চেতনা বা বিচারক্ষমতা নষ্ট করে। এটা ২০২৫ সাল, এখনও এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে, এটা ভাবতেই অবাক লাগছে।”

দুপুর তিনটের মতো সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান নোরা। দিনের আলোয় এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। তাঁর কথায়, “আমি ভাবতেই পারিনি যে দুপুরবেলা কেউ মদ খেয়ে গাড়ি চালাবে এবং অন্যদের জীবন বিপন্ন করবে।”

যদিও তিনি অনুরাগীদের আশ্বস্ত করেছেন যে এখন তিনি নিরাপদ, তবুও মানসিকভাবে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেননি নোরা। তিনি বলেন, “আমি মিথ্যে বলব না। এটা খুবই ভয়ংকর, আতঙ্কজনক এবং ট্রমাটিক মুহূর্ত ছিল। এখনও একটু ট্রমাটাইজড রয়েছি।”

এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন তিনি সানবার্ন ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করতে গেলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন নোরা। ডেভিড গেটার সঙ্গে মঞ্চে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, “আমি আমার কাজ, আমার স্বপ্ন আর সুযোগের পথে কোনও কিছুই বাধা হতে দিই না। একজন মদ্যপ চালকের জন্য আমি এত বড় একটা সুযোগ ছাড়তে পারি না। এই জায়গায় পৌঁছতে আমি অসম্ভব পরিশ্রম করেছি।”

বার্তার শেষে নোরা ধন্যবাদ জানান তাঁর অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের, যাঁরা তাঁর খোঁজ নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে ভারতে বহু নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কথায়, “এর কোনও অজুহাত নেই। আমি ভাগ্যবান যে বেঁচে আছি। কয়েক সেকেন্ডের জন্য সত্যিই মনে হয়েছিল জীবন চোখের সামনে দিয়ে চলে গেল। এটা আমি কাউকেই কামনা করি না।”
নোরা ফাতেহির এই খোলামেলা বার্তা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আবারও সামনে এনেছে দায়িত্বশীল ড্রাইভিং ও সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব।