সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
সামনেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। তাই একদিকে যখন বুধবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো দিতে গেলেন মন্দিরে পাশাপাশি ভবানীপুরের বিখ্যাত মল্লিক বাড়িতে গিয়ে অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের হাতে মমতার সরকারের আমলে বাংলার উন্নয়নের খতিয়ান সম্বলিত উন্নয়নের পাঁচালী তুলে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল সাড়ে চারটার কিছু আগে দক্ষিণ কলকাতায় রঞ্জিত মল্লিকের বাসভবনে পৌঁছন অভিষেক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দরজায় স্বাগত জানান রঞ্জিত মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী দীপা মল্লিক। বাড়িতে ঢুকেই অভিষেক পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন অভিনেতা দম্পতিকে। এরপর অন্দরমহলে বেশ কিছুক্ষণ কথোপকথনের পর অভিনেতার হাতে তুলে দেওয়া হয় তৃণমূল জমানার ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান—‘উন্নয়নের পাঁচালি’।
‘উন্নয়নের পাঁচালি’ মূলত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের শাসনকালে রাজ্যে যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তার একটি সামগ্রিক নথি। তবে এটি কেবল সংখ্যার হিসেব নয়। এই পাঁচালির বাক্সে রয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পরিকাঠামোর অগ্রগতির তথ্য, নারী ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক মানুষের জন্য নেওয়া প্রকল্পের বিবরণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে লেখা চিঠি, এই সমস্ত উপাদান মিলিয়ে উন্নয়নকে কাগুজে পরিসংখ্যান থেকে বের করে এনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে যাওয়ার পর অভিষেকের আরেক কর্মসূচিও ছিল। তিনি নন্দনেও যান। সেখানে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত নতুন ছবি লক্ষ্মী এলো ঘরে-র ডিরেক্টরস কাট প্রিভিউতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। এই এ ছবি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার। বুধবার সন্ধ্যায় এই ছবিকে কেন্দ্র করে সেজে উঠেছিল নন্দন চত্বর। নাম- লক্ষ্মী এলো ঘরে। স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই প্রজেক্টে বাংলায় চালু থাকা লক্ষ্মীশ্রী ও কন্যাশ্রী-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সমাজে কী প্রভাব ফেলেছে, সেই বাস্তব প্রেক্ষাপট তুলে ধরবে। ছবিতে শুভশ্রীর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন অঙ্কুশ হাজরা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিক থেকেও ছবিটি তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ছবি তৃণমূলের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে বলেই অনুমান।