শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশসঙ্গী ছিলেন বলেই মোমোর মালিক গ্রেফতার হয়নি।’ অগ্নিকাণ্ড বিধ্বস্ত আনন্দপুরে প্রতিবাদ মিছিলে পা মিলিয়ে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হাতে একটা প্ল্যাকার্ড। সেই প্ল্যাকার্ডে সাঁটানো একটা ছবি। মুখ্যমন্ত্রীর ছবি। মুখ্যমন্ত্রী বিদেশের কোনও একটি রাস্তায় হাঁটছেন, তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমাতেই। প্ল্যাকার্ডে আবার লেখা, ‘ছবি কথা বলে।’
নাজিরাবাদে এখন জারি ১৬৩ ধারা। তার মধ্যেই হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে আদালতের নির্দেশিত পথে মিছিল করলেন তিনি। সঙ্গে বিজেপি বিধায়করাও। মিছিলে হাঁটলেন মমতার ছবি নিয়ে। শুভেন্দু বললেন, ছবিতে মমতার সঙ্গে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনি আদতে মোমো কারখানার মালিক। যে কারখানার বিরুদ্ধে অব্যবস্থপনার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। আর তার বলি হয়েছেন ৩ কর্মী। গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাস গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু কেন গ্রেফতারি নয় মোমো কারখানার মালিককে? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সোমবার ভোরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরে এখন সবে ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে আনন্দপুরে৷ পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া গোডাউনের স্তূপ সরানোর সাথে সাথে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে দেহ৷ বৃহস্পতিবার সারাদিনে উদ্ধার হয়েছে মোট ৪টি মৃতদেহ৷ আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫৷ তার মধ্যেই হাইকোর্টের শর্তাধীন অনুমতি সাপেক্ষে আজ আনন্দপুরের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছেলে শামিল হল বিজেপি।
শুক্রবার পুলিশ মোমো কারখানার ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে। গত ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে গুদামে যখন আগুন লাগল, তখন তাঁরা কোথায় ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। জানা যাচ্ছে, মনোরঞ্জন শিট ওই গুদামের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু মালিককে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতেই এই ছবি নিয়ে মিছিল করলেন শুভেন্দু। ছবি দেখিয়ে সাংবাদিকদের শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন কার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হাঁটছেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘মোমো সংস্থার মালিকের বিদেশ সফরের সঙ্গী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী যাঁর সঙ্গে রাস্তায় হাঁটছেন, তিনি ওই মোমো সংস্থার মালিক। কর্মীদের ধরছেন কেন, গঙ্গাধর দাসকেও যেমন ধরেছেন, আমরা সমর্থন করি। তেমনি মোমো সংস্থার মালিককেও গ্রেফতার করতে হবে।’
পাশাপাশি, খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের গ্রেফতারি, স্থানীয় থানার আইসিকে সাসপেন্ড, দমকলমন্ত্রীকে পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবি করেন। এদিন পাঁচ দফা দাবি নিয়ে শুভেন্দু মিছিল করেন। যার মধ্যে রয়েছে, দখল হওয়া জলাভূমির তালিকা তৈরি করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজদের খুঁজে দিতে হবে। মৃতদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দিতে হবে এবং অগ্নিকাণ্ডে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে। এখানে যত জলাভূমি বুজিয়ে দিয়েছে, তার তালিকা চাই। কেন করেছেন, তার হিসেব চাই। ৫০ লক্ষ করে ক্ষতিপূরণ, ওই ১০ লাখ দয়ার দান চলবে না। স্থায়ী চাকরি দিতে হবে।

শুভেন্দুর মিছিলে ডিজে, নিন্দায় সরব তৃণমূল
এদিকে আনন্দ করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজু প্রসাশনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল ের বাজানো হলো ডিজে! আর এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া, ‘এটাই বিজেপির সংস্কৃতি!’