সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
কোনও রকম মানহানিকর বা অপ্রাসঙ্গিক প্রচার করা যাবে না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরার বিরুদ্ধে। আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বৃহস্পতিবার নির্দেশ দেন, আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত রুজিরার বিরুদ্ধে কোনও রকম মানহানিকর বা অকারণ তাঁর নাম জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা চলবে না। ২৪ এপ্রিল এই মামলার বিস্তারিত শুনানি করবেন বিচারপতি।
অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে, তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ার জন্য তাঁর নাম জড়িয়ে সংবাদমাধ্যম ইচ্ছেমতো প্রচার করে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিকে তাদের তদন্তের বিষয়ে আগে থেকে সংবাদমাধ্যমে প্রচার না-করা বা ইনফর্ম না-করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমও যাতে অকারণে অভিষেক-ঘরণীর নাম ব্যবহার করে প্রচার না-করে সে বিষয়ে সতর্ক করে গত বছর ১৯ ডিসেম্বর সেই মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আজ সেই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের সময়সীমা বাড়াল কলকাতা হাইকোর্ট।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এদিন মামলাকারীকে বলেন, ‘কেন আপনারা নিম্ন আদালতে যান না?’ এরপর তিনি জানিয়ে দেন আগামী 24 এপ্রিল তিনি এই মামলার পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও রকম মানহানিকর বা অকারণ তাঁর নাম জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা চলবে না।
প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে কয়লা দুর্নীতি থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়ালে সংবাদমাধ্যম অভিষেকের নাম উল্লেখ করার সময় একইসঙ্গে রুজিরার নামও জড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। সেই মামলায় ‘মানহানিকর’ প্রচার বন্ধ করার আর্জি জানানো হয়েছিল। সেই মামলাতেই বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে তাদের তদন্ত প্রক্রিয়ার বিষয়ে জনগণকে ওয়াকিবহাল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট সংবাদসংস্থার বিরুদ্ধে রুজিরা বা অভিষেক আদালত অবমাননার মামলা করতে পারবেন বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তকে সামনে রেখে একশ্রেণির সংবাদমাধ্যম তাঁদের নামে মিথ্যা খবর প্রচার করছে, এই দাবি করে মামলা করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়।