পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে ২০ জুন, রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনে বদলাল সরকারি স্বীকৃতির দিন
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
পহেলা বৈশাখ নয় এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য দিবস বা প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালিত হবে ২০ জুন তারিখটি। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার কেবিনেট বৈঠকে গৃহীত হলো এমন সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি আজকের বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ বন্ধ করার জন্য বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়ার অনুমোদনের পাশাপাশি মমতার আমলে চালু হওয়া মা ক্যান্টিনের নাম বদল করে মা আহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে বাংলায় সনাতনী হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির জনক বলে পরিচিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ষব্যাবি উদযাপন করার জন্য বিধায়ক এবং মন্ত্রীদের নিয়ে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শে একটি কমিটি গঠন করে তার মূর্তি স্থাপনের জন্য জায়গা খোঁজা হবে বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে জনপ্রিয় সুলভ মূল্যের খাবার প্রকল্প ‘মা ক্যান্টিন’-এ ব্যাপক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে এই প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘মা আহার’। শুধু নাম নয়, মেনু কার্ডেও আসছে বড় বদল। এতদিন এই ক্যান্টিনগুলিতে মূলত ভাত-ডাল-সবজি-ডিম দেওয়া হলেও, এবার থেকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাছ-ভাত পরিবেশন করা হবে। রাজ্যের গরিব ও প্রান্তিক মানুষের পুষ্টির কথা মাথায় রেখেই রাজ্য মন্ত্রিসভা এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কম খরচে পেটভরা ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
বুধবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁর কথায়, এখন থেকে প্রতি বছর ২০ জুনই রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ দিনটি উদযাপিত হবে। শুধু তাই নয়, কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, কারণ গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়ে বাংলা নববর্ষের সূচনাদিন, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিলকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সরকারি স্তরে ওই দিন নানা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি বরাবরই দাবি করে এসেছে যে ২০ জুনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের গঠন-ইতিহাসের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণে তারা পৃথকভাবে ওই তারিখেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে এসেছে। শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের এই ভিন্ন অবস্থান বহুবার রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা ছিল যে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের সরকারি তারিখ পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাই বাস্তবে পরিণত হল। সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীর দিন মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরুর লক্ষ্যে ভূমিপুজোর আয়োজন করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

সীমান্তে কাঁটাতার এবং বর্ডার আউটপোস্ট তৈরির জন্য ৪৬ একর জমি দেওয়ার অনুমোদন। সেবক-রংপুর ব্রডগেজ রেল লাইনের জন্য রেলওয়েকে নাগরাকাটা ২০ একর খাস জমি দেওয়ার অনুমোদন। মন্ত্রীদের নির্বাহী আধিকারিক বা এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টদের বেতন ১৮ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার করার অনুমোদন। নিকাশি কর্মীদের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি। এবার থেকে কাজ করতে গিয়ে শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ। পশ্চিমবঙ্গ এসসি এসটি ওবিসি ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ফাইনান্স কর্পোরেশন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত। ৩৫৪ টি নতুন পদ সৃষ্টি।