“দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন আর ঘুষ মুক্ত চাকরি, নিয়োগ হবে স্বচ্ছ ও ঘুষ মুক্ত” ঘোষণা উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
“আমাদের লক্ষ্য আগামী ৫ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ অধিনায়কত্ব করবে। সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়া। তার জন্য যা যা করণীয়, আমরা করব।” পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী পদে দায়িত্ব নিয়েই এমন ঘোষণা করলেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
দায়িত্ব নিয়েই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হলেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন ডাবল ইঞ্জিন সরকার না হওয়ায় কীভাবে বঞ্চিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যয়ের কথায়, “আমরা, আমাদের আগের দুটি প্রজন্ম ও পরের দুটি প্রজন্ম; মোট ৫ টি প্রজন্ম শুধু দিল্লির সঙ্গে লড়াই করাটাকে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলে মনে করেছি। বাংলার সামনে পাঁচ দশক পর আবার একটা সুযোগ এসেছে যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা নেওয়ার। রাজনৈতিক ভাবে ভিন্নতা থাকলেও কেন্দ্রকে বাদ দিয়ে সরকার চালানোর মানসিকতা দেখায়নি কেরল বা তামিলনাডু। আমরা দেখিয়েছি, আমরা রাজ্যকে পিছিয়ে দিয়েছি।”
ডাবল ইঞ্জিন সরকার না হওয়ার সব থেকে বড় প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে, বললেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়েছে সব থেকে বেশি। সেই কারণে আমাদের এই অঙ্গীভূত করা, একত্রীকরণ করা ও সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতির প্রতিটি বিষয়কে হুবহু আমরা এখানে প্রয়োগ করব। মেনে চলব। যাতে বাংলার ছাত্রছাত্রীরা যারা উচ্চ শিক্ষার্থী হয়ে দেশের অন্য প্রান্তের সঙ্গে সঙ্গে সেই একই সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেও তারা পেতে পারে। এবং সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা ক্ষেত্রে কার্যত জ্ঞানসাগর ও গুণসাগর হিসাবে ছিল। আমাদের লক্ষ্য আগামী ৫ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ অধিনায়কত্ব করবে। সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়া। তার জন্য যা যা করণীয়, আমরা করব।”
নিজের বক্তব্যে আগের ৫০ বছরকে বিঁধলেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক ও মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বললেন, “গত ৫ দশক ধরে যে এই প্রক্রিয়া আর গত ১৫ বছর ধরে যা খুব বেড়ে গিয়েছে, এমন কোনও একটা ক্ষেত্র নেই, যেটা আপনি বলতে পারবেন সেটা ভাল। বাম জমানার মধ্যমেধার চাষ থেকে তৃণমূল জমানার শিক্ষাহীনতা, তার উদাহরণ হল কলেজে বেডরুম পাওয়া। লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাবের বদলে বেডরুম। এই ব্যবস্থা বদলের জন্যই মানুষ ভোট দিয়েছে।”

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বললেন, “আমাদের সংকল্পপত্রে আমরা যেটা বলেছি, বছর বছর এসএসসি, বছর বছর সিএসসি। বছর বছর পিএসসি। বছর বছর মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন। বছর বছর কোঅপারেটিভ সার্ভিস কমিশন। বছর বছর পুলিশে নিয়োগ, বছর বছর পুরসভা ও পঞ্চায়েতে নিয়োগ। দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন আর ঘুষ মুক্ত চাকরি। নিয়োগ হবে স্বচ্ছ ও ঘুষ মুক্ত।”