সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘মিসিং ডাইরি হওয়ার পর স্থানীয় পুলিস প্রশাসন যদি যথেষ্ট সচেষ্ট না হয়ে থাকে, কারো কোন গাফিলতি থাকলে পুলিস কর্মীকে দরজা দেখিয়ে দেব। নির্যাতিতার বাবা যা যা চাইবেন মুখ্যমন্ত্রী সাধ্য অনুযায়ী তাকে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। ন্যায় বিচার পাবেন। ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের জন্য যা যা সুপারিশ করা দরকার রাজ্যের সরকার করবে।’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগের রাজ্যজুড়ে যে তোলপাড় শুরু হয়েছে তার প্রেক্ষিতে এভাবেই কঠোরতম শাস্তির সুপারিশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বারুইপুর কাণ্ডে জিরো টলারেন্স নেওয়ার কথাও জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে বলে সাফ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট অর্থাত্ সর্বোচ্চ শাস্তির নির্দেশ। তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘অন্যান্য যা যা ঘটেছে তার সঙ্গে সামশেরগঞ্জ, বেল ডাঙার মিল পাচ্ছি। তদন্ত চলছে। কাউকে ছাড়ব না। এর থেকে বেশি কিছু তদন্ত চলাকালীন আমার বলা উচিত নয়।’
গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য আগামীকাল বারুইপুরে যাচ্ছেন বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গতকাল বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। সিট তৈরি হয়েছে। পলাতক দুই ব্যক্তির সঙ্গে আসামিদের কথোপকথনের প্রমাণ মিলেছে। পরিবার ঠিক যেভাবে জাস্টিস চেয়েছেন ঠিক সেইভাবে পাবেন।’
প্রসঙ্গত, ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল বারুইপুর। খুনে অভিযুক্ত সন্দেহে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিস। আটক করা হয়েছে তিনজনকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এই ঘটনায় স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করেছে রাজ্য পুলিশ। জানা গিয়েছে, গত শনিবার বিকেল চারটে থেকে নিখোঁজ ছিল নির্যাতিতা। খাবার কেনার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। গতকাল রবিবার বাড়ির কাছেই একটি পুকুর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে দিয়েছিল চার যুবক। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাকে। এরপরই পরিস্থিতি রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। দেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পথ অবরোধ করেন তাঁরা। অবরোধ সূর্যপুর স্টেশনেও। বন্ধ হয়ে যায় শিয়ালদহ-নামাখানা লাইনে ট্রেন চলাচল। উত্তেজিত জনতা বহু সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ।

সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিন জন আটক। আইন আইনের পথে চলছে। কিন্তু জনরোষ! আন্দোলনের নামে মব লিঞ্চিং! আইন এখন রয়েছে রাজ্যে। শক্তপোক্ত সরকার। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট তো দেবই। সঙ্গে সেইসব অতৃপ্ত আত্মা যারা ট্রেন লাইনে কাঠের ব্লক ফেলে ট্রেন আটকানো বা মব লিঞ্চিং করেছে তাদের খুঁজে খুঁজে বের করব। রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে। ২০১৯ সালের সিএএ বিরোধী আন্দোলন বা গত বছরের ওয়াকফ বিল বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে মিল পাচ্ছি। প্রথম অপরাধের তো বিচার দেবই। বাকি যা যা বললাম এমন ভোগাবো যে টের পাবে।’