সুটিয়ার প্রতিবাদী বরুণ বিশ্বাসের হত্যার রহস্যের ফাইল খোলার পরে এবারে খুলতে চলেছে কামদুনি ফাইল, শুভেন্দুর জনতার দরবারে আবেদন কামদুনির প্রতিবাদীদের
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবার অনুষ্ঠানে গিয়ে গত সপ্তাহেই সুটিয়ার প্রতিবাদী বরুণ বিশ্বাসের হত্যার রহস্যের ফাইল খোলার আবেদন করেছিলেন বরুণের দাদা ও দিদি। তার কয়েকদিনের মধ্যেই গোবরডাঙ্গায় বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে নতুন করে তদন্তের বিষয় খোঁজখবর নেয় সিআইডির তদন্তকারীরা। এবারে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে নতুন করে তদন্তের ফাইল খোলার আবেদন জানালেন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনি ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদীরা।
কেটে গিয়েছে ১৩ বছর। এখনও তাঁরা বিচার পাননি বলে বারবার সরব হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। বারুইপুরকাণ্ডে অন্যতম এক অভিযুক্তের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর কামদুনির নির্যাতিতার ভাইও তাঁর দিদির ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারের দাবি জানিয়েছিলেন। আর বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে হাজির হলেন কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাঁরা খুশি বলে জানালেন নির্যাতিতার ভাই। বারুইপুরকাণ্ডে অন্যতম এক অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার আশা প্রকাশ করেন, তাঁরাও এবার বিচার পাবেন।
সেই বিচারের আশাতেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে আসেন কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কামদুনির দুই প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুশি নির্যাতিতার পরিবার। নির্যাতিতার ভাই বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বলেন, আগের সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি চাপা দিয়ে রেখেছিল। আমরা সেটা করব না।’ এরপরই নির্যাতিতার ভাই বলেন, ‘ফাঁসি তো অবশ্যই চাই। কিন্তু, আজকাল যা ধর্ষণ বাড়ছে, এতে সরাসরি এনকাউন্টারে মেরে দেওয়া হোক। এনকাউন্টার আইন হোক।’ একইভাবে নির্যাতিতার দাদাও সেই দাবি করছেন। যদিও তিনি আইনের প্রতি বেশি ভরসা রাখছেন। মেয়ের ধর্ষণ-খুনের বিচার এতদিন পর পাবেন বলে আশাবাদী নির্যাতিতার মাও। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমি সব জানি। আমরা বিচার পাব। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হয়েছি।’ টুম্পা ও মৌসুমী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উপর আস্থা রাখতে বলেছেন।’
কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বারাসত আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। আগের সরকার ১৬ জন সরকারি কৌঁসুলিকে বদল করে আসামিদের খালাস করার ব্যবস্থা করে। এবারে যে পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আমি তাঁদের বলেছি, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের আইনজীবীরা সহযোগিতা করবেন, যাতে তাঁরা যে আবেদন করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে তাঁদের আবেদনের সুবিচার পান। এই মুহূর্তে বিষয়টি রাজ্য সরকার কিংবা রাজ্যের পুলিশের হাতে নেই। সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে রাজ্যের আইনজীবীরা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকবেন। তা নিয়ে নির্দেশিকা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে।’

জনতা দরবার শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিষয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কামদুনির সুবিচার থেকে শুরু করে ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং রাজ্যের শিল্প বিনিয়োগ- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের অধীনে রয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার সেখানে আপিল করেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, বিষয়টি এখন আর রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারে নেই। তবে সর্বোচ্চ আদালতে কামদুনির পরিবার যাতে সঠিক বিচার পায়, তার জন্য রাজ্য সরকার সব রকমভাবে তাঁদের পাশে থাকবে এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৯ জনের কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। আক্রান্ত পরিবারগুলি যাতে দ্রুত বিচার পায়, সরকার তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, পূর্বতন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাড়াহুড়ো করে চার্জশিট জমা দিয়ে মামলার ক্ষতি করেছিল স্থানীয় পুলিশ। তবে এবার থেকে পুলিশ সম্পূর্ণ আইন মেনে পদক্ষেপ করবে।
মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন শুভেন্দু
প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের সরকারি নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক সৌজন্যের এক উল্লেখযোগ্য নজির হিসেবেই দেখছেন অনেকেই। আর এই সিদ্ধান্তের কথা জেনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মীরা ভট্টাচার্য নিজেও। টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মীরা ভট্টাচার্য বলেন, ‘বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর পরই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। এখন অবশ্য আমার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী যদি আমার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য।’