ছাত্র আন্দোলনকে ‘মার্কেটিং টুল’ বানানোর অভিযোগ (Akanksha Puri)-র। বন্ধুদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি অভিনেত্রীর।
শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ছাত্র আন্দোলন কি শুধুই প্রতিবাদের মঞ্চ, নাকি তার আড়ালেও চলছে অন্য খেলা? এমনই বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলে দিলেন অভিনেত্রী (Akanksha Puri)। তাঁর এক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল— সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন তাঁর দাবি।
(Bigg Boss OTT)-খ্যাত অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা পুরী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, চলতি ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁর পরিচিত কয়েকজন অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। যদিও তিনি কোনও ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের নাম প্রকাশ করেননি, তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
আকাঙ্ক্ষার কথায়, “আমি শুধু চাই মানুষ সত্যের পাশে দাঁড়াক। কোনও আন্দোলনকে প্রচারের হাতিয়ার বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বানানো উচিত নয়। যারা সঠিক দাবির জন্য লড়ছে, তাদের পাশে থাকুন।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর পরিচিত একাধিক শিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল চলমান ছাত্র আন্দোলনকে প্রচারের অংশ বানানো, জনসমর্থন টানা এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁদের রাজি করানো।
অভিনেত্রীর বক্তব্য, “আমি এই ধরনের কোনও কিছুর অংশ হতে চাই না। আমি শুধু সঠিক উদ্দেশ্যের পাশে থাকতে চাই। আমি সেখানে উপস্থিত থাকি বা না থাকি, তাতে কিছু যায় আসে না। যখনই প্রয়োজন হবে, আমি সত্যের পক্ষেই দাঁড়াব।”
ছাত্রদের বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে বলেও জানান আকাঙ্ক্ষা। তাঁর কথায়, “ওরাই দেশের ভবিষ্যৎ। এত কম বয়সে তাঁদের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেটা খুবই কষ্টের।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি (Delhi)-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ছাত্রদের বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হয়েছে। রাজধানীর (Jantar Mantar)-এ হাজার হাজার পরীক্ষার্থী ও যুবক-যুবতী প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। এই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও জোরদার হয়েছে।
এই আবহেই বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রুখতে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সেই লক্ষ্যেই দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের দিকেও সরকার এগোচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ খবরও সামনে এসেছে। সমাজকর্মী (Sonam Wangchuk)-এর অনশন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার মাঝেই খবর আসে, (Gurugram)-এর (Medanta Hospital)-এ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী (JP Nadda) এবং কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী (Dr Jitendra Singh) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপরই অনশন প্রত্যাহারের খবর সামনে আসে, যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আকাঙ্ক্ষা পুরীর মন্তব্যের সত্যতা নিয়ে এখনও স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ফলে তাঁর দাবি এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার বিষয় হলেও, অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

একদিকে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে আন্দোলনকে ঘিরে ওঠা নতুন অভিযোগ— দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। এখন প্রশ্ন একটাই, আকাঙ্ক্ষার এই বিস্ফোরক দাবি কি নতুন তদন্ত বা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে, নাকি সবটাই সীমাবদ্ধ থাকবে সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনাতেই?