শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

হন্ডা কার্স ইন্ডিয়া তাদের প্রথম অল-ইলেকট্রিক এসইউভি ২০২৬ সালে লঞ্চ করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। এই নতুন ইলেকট্রিক গাড়িটি এলিভেটের বডি শেল ব্যবহার করবে, তবে নতুন নাম এবং ডিজাইন পাবে। ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে হন্ডার প্রবেশ কোম্পানির কৌশলগত পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলেই মনে করছেন অনেকে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, হন্ডা কার্স ইন্ডিয়ার সভাপতি এবং সিইও তাকুয়া সুমুরা ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে তিনটি বৈদ্যুতিক মডেল লঞ্চ করার কথা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে একটি হবে এলিভেট প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। অন্য দুটি হবে হাইব্রিড অথবা ইলেকট্রিক মডেল। বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতার লক্ষ্য অর্জনের জন্য, কোম্পানি তাদের পণ্যের মধ্যে বৈদ্যুতিক মডেলের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এলিভেট-ভিত্তিক ইলেকট্রিক গাড়িটি হন্ডার এসিই (এশিয়ান কম্প্যাক্ট ইলেকট্রিক) প্রকল্পের অংশ। কোম্পানি প্রাথমিকভাবে এই গাড়িটি ভারতীয় বাজারের জন্য তৈরি করবে। তবে, বিভিন্ন দেশে, জাপান সহ, ৫০-৭০% রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই, হোন্ডার এসিই প্রকল্প ভারতকে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

হন্ডার নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে আসবে। বর্তমানে এই ক্ষেত্রে টাটা মোটরস, এমজি, মাহিন্দ্র ইত্যাদি ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে হুন্ডাই এবং মারুতি সুজুকিও মাঝারি আকারের বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় যোগ দেবে।

এই ক্ষেত্রের অন্যতম প্রতিযোগী হল মাহিন্দ্রার BE 6E। এটিতে দুটি ব্যাটারি বিকল্প রয়েছে: ৫৯ kWh এবং ৭৯ kWh, যার রেঞ্জ ৬৮২ কিলোমিটার পর্যন্ত। BE 6E-তে ১৭৫ kW ফাস্ট চার্জিং, ডুয়েল স্ক্রিন ডিসপ্লে, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি-ভিত্তিক হেডস-আপ ডিসপ্লে, এবং লেভেল ২ ADAS বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

২০২৬ সালে লঞ্চ হওয়া ইলেকট্রিক এসইউভি হোন্ডার বৈদ্যুতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে, প্রতিযোগিতামূলক ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে টিকে থাকার জন্য হোন্ডাকে কার্যকারিতা, বৈশিষ্ট্য এবং মূল্যের দিক থেকে অনেক কাজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *