সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
তৃণমূল সহ দেশের অধিকাংশ বিজেপি বিরোধী দলের তীব্র বিরোধিতা অগ্ৰাহ্য করে বাংলা সহ দেশের ১২ রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া। এবার এসআইআর বা ভোটার তালিকা নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে এবার ভার্চুয়াল পর্যালোচনার জন্য বৈঠক ডাকলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ৪ নভেম্বর থেকে এই কাজ শুরু হওয়ার পর একপ্রস্থ দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক সেরেছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের ২০ দিনের মাথায় ভার্চুয়াল বৈঠকে বসতে চলেছেন ডায়মণ্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। তৃণমূল সূত্রের খবর, এই বৈঠকে এসআইআর আবহে দলীয় সাংসদ ও বিধায়কদের পারফরমেন্সও রিভিউ করা হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে এসআইআর এর কাজ নিয়ে পরামর্শদাতা সংস্থার রিপোর্ট এবং সাংগঠনিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখে একটি ছবি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে পরিষ্কার। তা হল, এই ২০ দিনে অধিকাংশ জেলায় যেমন ভালো ভাবে কাজ হয়েছে, তেমনই আবার কয়েকটি জেলায় নেতৃত্বের মধ্যে গা-ছাড়া মনোভাব দেখা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সোমবারের বৈঠক থেকে যে সমস্ত জেলায় কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট নন অভিষেক সেই সমস্ত জেলার নেতা-নেত্রীদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন তৃণমূল সাংসদ। বনগাঁ, রানাঘাট, ঠাকুরনগর এই সব মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে এসআইআর-এর কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কীনা তা জানতে ওই সব এলাকার ব্লক ও সাংগঠনিক স্তরের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতে পারেন তৃণমূলের ডায়মণ্ড হারবারের এই সাংসদ। একইসঙ্গে নজর রাখা হচ্ছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির দিকেও।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ নভেম্বর অর্থাৎ সোমবার ভার্চুয়াল এই বৈঠক করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি দলীয় নেতা-নেত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের। জানা গিয়েছে সোমবার বিকেল ৪টের সময় এই ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তিনি।
এর আগের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বিএলও-দের সঙ্গে সঙ্গে থাকতে। তাদের কাজকর্ম দেখতে। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে এনুমারেশন ফর্ম জমা নেওয়ার পর কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেল কীনা তা খতিয়ে দেখার কথা এবং ভোটার তালিকায় নাম তোলার নির্দেশ দিতে পারেন তৃণমূলের সেনাপতি। এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। সূত্রের খবর, এসআইআর-এর কাজকর্ম ঠিকমতো হচ্ছে কীনা এবং কোথাও কোনও খামতি রয়েছে কীনা তা খতিয়ে দেখতে এবং ভুলত্রুটি পর্যালোচনা করতে এই বৈঠক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।