সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে গোপন রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে — এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংবেদনশীল পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বিহার নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশনের নাম করে ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম কেটে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল।
দিল্লিতে গিয়ে কমিশনের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল তাদের দাবির বিষয় গুলি জানিয়েছে। তা সত্ত্বেও বিহার এবং বাংলায় নির্বাচনের আগে নিজেদের উদ্দেশ্যমূলক নির্দেশিকা থেকে এতটুকু সরে আসেনি নির্বাচন কমিশন। এবার সেই কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। তৃণমূলের পক্ষে সাংসদ মহুয়া মৈত্র সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। বিহারের পাশাপাশি বাংলায় আগামী বছরে বিধানসভা ভোট। তার আগে কমিশনের তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে স্থগিতাদেশের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন মহুয়া মৈত্র। এর আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করে অভিযোগ জানান তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশিকা জারি করেছে। কমিশন জানিয়েছে, যাদের ভোটার তালিকায় নাম আছে তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। এক্ষেত্রে আঁধার এবং রেশন কার্ড গৃহীত হবে না। বয়সের শংসাপত্র এবং বোর্ডের পরিচয়পত্রকে অগ্রাধিকার দেবে কমিশন। তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কমিশনের কারসাজি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ভাজপার ঘুরপথে এনআরসি আনার অভিসন্ধি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল। ইন্ডিয়া জোটের বাকি রাজনৈতিক দলগুলিও এই নিয়ে কমিশনের বিরোধিতা করেছে।
তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্স হ্যান্ডেলে কমিশনের নির্দেশিকার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন। এসআইআরের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। মহুয়া মৈত্র জানান, বিহার-বাংলা-সহ বাকি রাজ্যগুলিতে কমিশন যাতে এই পদক্ষেপ না নিতে পারে তার জন্য স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, যাঁরা অতীতে ভোট দিয়েছেন তাঁদের পুনরায় যোগ্যতা প্রমাণ করতে বলা হয়েছে। তাঁদের বাবা-মায়ের জন্ম শংসাপত্র দিতে বলা হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে তাই এই মামলা বলে জানান তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
তিনি জানান, “২০০৩ নয়, ২০২৪ সালকেই ভিত্তিবর্ষ হিসেবে ধরা উচিত। নাহলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে।” তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে অশুভ আঁতাত চলছে, যার লক্ষ্য বিরোধী দল শাসিত রাজ্যগুলিতে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং ভোটাধিকার খর্ব করা। মামলার আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়া সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার যে শপথ নিয়ে চলে, তা এই কর্মকাণ্ডে স্পষ্টভাবে ভঙ্গ হয়েছে।