লঞ্চে করে বনকর্মীরা লোকালয়ে ঢুকে যাওয়া খাঁচায় বন্দী হওয়া বাঘটিকে নিয়ে আসে সুন্দরবনের চামটা জঙ্গল এলাকায়।চিকিৎসকরা বাঘটি কে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে।বাঘটি সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ আছে।তাই বনকর্মীরা বনের বাঘ বনেই ফিরিয়ে দিলেন।এদিন বিকালে বাঘটি কে ফরেস্ট ক্যাম্প থেকে জল পথে নিয়ে আসা হয় চামটা জঙ্গল এলাকায়।তারপর খাঁচার দরজা খুলে দিলে বাঘটি গর্জন করতে করতে এক লাফে নদীর চরে পড়ে দ্রুতগতিতে জঙ্গলে ঢুকে যায়।
এদিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে অবশেষে ছাগলের টোপে খাঁচায় বন্দী হয় লোকালয়ে ঢুকে পড়া বাঘটি।ফলে স্বস্তি ফিরে বন দফতর থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষজনেরা।ভোর ৩টা ৩২ মিনিট নাগাদ বাঘটি খাঁচায় বন্দি হয়।সোমবার বনকর্মীরা সবজি খেতের মধ্যে ছাগলের টোপ দিয়ে ২টি খাঁচা পেতে ছিল।
আর বাঘ ছাগল শিকার ধরতে ঢুকে পড়ে খাঁচায়।বন্দী হয় প্রায় ১০ বছর বয়সের বাঘটি।বাঘটিকে ফরেস্ট ক্যাম্পে রেখে সেখানেই চিকিৎসকরা বাঘের শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এবং বাঘটি সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ আছে বলে এমনি খবর বন দফতর সূত্রে।ডিএফও নিশা গোস্বামী জানান রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ বাঘটি খাঁচায় বন্দী হয়।২ টি খাঁচা পাতা হয়ে ছিল ছাগলের টোপ দিয়ে।ছাগল খেতে এসে বাঘটি খাঁচায় বন্দী হয়।তিনি আরও বলেন বাঘ গননায় দেখা গেছে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে এবং ১০০ টি বাঘ আছে।বাঘটি কে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে।বাঘটির মেল আছে এবং প্রায় ১০ বছর বয়স।বাঘটি কে বিকালে টাইগার সংরক্ষিত গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয় চিকিৎসকরা বললে।
এদিকে স্থানীয় মানুষজন বলেন বাঘটি খাঁচায় বন্দি হওয়ায় স্বস্তি পেলাম।তবে মাঝে মধ্যেই বাঘ এলেও এই ভাবে একেবারে লোকালয়ে চলে আসেনি।খুবই আতঙ্কের মধ্যে সারারাত ধরে জেগে ছিলাম।বাঘটি খাঁচায় বন্দি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তে এলাকায় বাঘ দেখতে ভিড় জমায় গ্রামবাসীরা।
৯ ফ্রেবুয়ারি রাত থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি ব্লকের মৈপীঠ বৈকুণ্ঠপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল।স্থানীয় বাসিন্দারা বাঘ দেখতে পান।তারা খবর দেয় বন দফতর ও থানায়।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে বনকর্মীরা ও কুলতলি থানার পুলিশবাহিনী। বাঘটি যাতে কোনও ভাবে রাতের অন্ধকারে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করতে নগেনাবাদ ৯ নম্বর মুলার জেটিঘাটের কাছে গ্রামের দিক বরাবর লাইলনের জাল লাগিয়ে দেওয়াও হয়েছিল।এর ফলে রাতে গ্রামে বাঘ না ঢুকলেও সোমবার সকালে খবর মেলে, লাইলনের জালের আশপাশেই রয়েছে বাঘ।সেই মতো বাঘকে বন্দি করার পরিকল্পনা করা হয়। স্থানীয় টাইগার টিমের সদস্যেরা বাঘকে বন্দি করতে গিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই সময়েই টাইগার টিমের এক সদস্য গণেশ শ্যামলের উপর বাঘটি হামলা চালায়।
কামড়ে ধরে তাঁর ঘাড়। সহকর্মীকে বাঁচাতে দলের বাকি সদস্যেরা লাঠি নিয়ে বাঘটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।তাতে বাঘ বনকর্মীকে ছেড়ে দিয়ে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ে।জখম বনকর্মী এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় বাসিন্দা রাজকুমার সাঁপুই নামে এক যুবক জেটিঘাটের কাছে বসেছিলেন।সেই সময় শ্মশানঘাটের কাছে একটি বাঘকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছিলেন তিনি।গ্রামে ফিরে সে খবর দেয় গ্রামবাসী কে।ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।এরপর বনকর্মীদের ছাগলের টোপে পাতা খাঁচায় বন্দী হয় বাঘটি।গত ১২ জানুয়ারি রাতে সুন্দরবনের আজমলমারী ১১ নম্বর জঙ্গলে বনকর্মীদের পাতা ছাগল টোপের খাঁচায় বন্দী হয় একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বাঘটি সাত দিনের মধ্যে ৪ বার গভীর জঙ্গল থেকে বের হয়ে লোকালয়ে হানা দিয়ে ছিল।এমনকি মৈপীঠের বৈকুন্ঠপুরের গঙ্গার ঘাটে টাটা কা বাঘের ছাপ ও দেখা যায়।আর এই সব দেখে স্থানীয় মানুষজন খবর দিয়ে ছিল বন দফতরে।ফলে নলগড়া-কুলতলি বিটের বন কর্মীরা গিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার স্টিলের জাল দিয়ে ঘিরে দেয় ঘটনাস্থলে।অবশেষে আজমলমারী ১১ নম্বর জঙ্গলে ছাগলের টোপ দিয়ে খাঁচা পাতে বন কর্মীরা।
রাত বাড়ার সাথে সাথে সেই খাঁচায় বন্দী হয় বাঘটি।সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়ে এসে লোকালয়ে ঢুকে পড়া নতুন কিছু নয়।তবে বাঘ যেভাবে ঘন ঘন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে তাতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিভাগীয় দফতর গুলিতে।এদিকে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে বাঘ কেন ঘন ঘন লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।এ বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে এবং এর উৎস উদঘাটন করে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।অনেকই মনে করছেন প্রকৃতির খামখেয়ালিতে বাঘের পরিবেশে নষ্ট হচ্ছে।আবার সুন্দরবনের নদী গুলিতে পলি পড়তে পড়তে চরা পড়ে যাচ্ছে।ফলে বাঘ সহজেই চলে আসছে লোকালয়ে।তবে এর আসল কারণ খুঁজে বের করে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত এমনি মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।এদিকে বনের বাঘ বনে ফিরে যেতেই খুশি বাঘ প্রেমিক মানুষজন।