সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
এক মাসের প্রচেষ্টা। অবশেষে সাইবার নিরাপত্তায় বড় সাফল্য রাজ্যের। বীরভূম থেকে জামতাড়া গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার কর়ল রাজ্য পুলিশের সাইবার শাখা। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ৪৬ জন সাইবার প্রতারককেও। ‘সাইবার শক্তি’ নামে শুরু হয়েছিল তল্লাশি অভিযান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মিলল সাফল্য। তবে এখনই শেষ নয়। বরং আরও গ্রেফতারি যে হতে পারে, সেই ইঙ্গিতটাও সাংবাদিক বৈঠক থেকে দিয়ে দিলেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার।
এদিন তিনি বলেন, ‘শতাধিক ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড-সহ একাধিক জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রাজ্যে সাইবার প্রতারণা রুখতে চলছে অপারেশন সাইবার শক্তি। ইতিমধ্যে ৪৬ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। তবে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত আছে বলেই খবর।’
এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতীম সরকার জানান, আসানসোল, বীরভূম, দুর্গাপুর, চন্দননগর, পূর্ব বর্ধমান থেকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। কোনও বিখ্যাত সংস্থার নাম করে মূলত সাইবার প্রতারণা করা হয়। ডিজিটাল অ্যারেস্টের অভিযোগও উঠেছে বহু। এছাড়া ভুয়ো চাকরি, ভুয়ো বিনিয়োগ, গ্যাস লাইন দেওয়ার নামে প্রতারণা, সেক্সটরশন-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। সে কারণে অপারেশন ‘সাইবার শক্তি’ চালু করে রাজ্য পুলিশ।
১০টি টিম গঠন করা হয়। বীরভূম, আসানসোল, চন্দননগর, পূর্ব বর্ধমান-সহ একাধিক জায়গায় ছোট ছোট দলে ঘাঁটি গেড়ে বসে প্রতারণা করে। তল্লাশি চালিয়ে সাইবার প্রতারকদের গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, তারা সকলেই ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত করে গত ১৫ দিনে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসখানেকের মধ্যে পাওয়া ২৫০টি অভিযোগের ৯০ শতাংশ সমাধান করা হয়ে গিয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ জানালেন, বঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলকেই নিজেদের ঘাঁটি বানাচ্ছে সাইবার প্রতারকরা। আর সেখান থেকেই চলছে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা চক্র। তাঁর কথায়, ‘জামতাড়া থেকে বঙ্গে ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন জেলাগুলিতে এরা আসছে। তারপর ছোট ছোট গ্যাং করে ফাঁদ পাতছে প্রতারণার। কাজ মিটলে, আবার নিজে ভূমেই ফিরে যাচ্ছে এরা।’
তাঁর আরও দাবি, ‘কখনও দিন পনেরো, কিংবা কখনও দিন সাতেকের জন্য জামতাড়া থেকে বঙ্গে এসে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রথমে বাড়ি ভাড়া নিচ্ছে তারা। তারপর সেখান থেকে প্রতারণার কাজ চালাচ্ছে তারা।’