সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“জমির মিউটেশন, কনভার্সন এসব তো টাকা ছাড়া এগোয় না! অনেকটা কন্ট্রোল করা গেছে, কিন্তু পুরোটা করতে হবে।” এমন বিষ্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকারের কাছ থেকে বেতন নেওয়ার পরও ঘুষ কেন? অ্যাকশন নিতে হবে। তাই আমাদেরও কিছু এজেন্সি দরকার, যারা নজর রাখবে।”
একশ্রেণির সরকারিবাবু ফাঁকিবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ছিলই। কয়েকটি বিভাগে তো আবার টাকা না দিলে নাকি কলমই সরে না!
পরিস্থিতির মোকাবিলায় অদূর ভবিষ্যতে স্বতন্ত্র এজেন্সি তৈরি করতে পারে রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নের শিল্প সংক্রান্ত প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তেমনই ইঙ্গিত শুনিয়েছেন খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “পুলিশের অনেক কাজ থাকে। আইনশৃঙ্খলা সামলাতে সামলাতে তারা অন্যদিকে নজর দেওয়ার সময় পায় না। আমাদেরও কিছু ইনডিপিন্ডেট এজেন্সি দরকার, যারা নজর রাখবে।”
একইভাবে ফায়ার লাইসেন্স. এনভাইরনমেন্ট লাইসেন্স, ব্লিডিং প্ল্যান- এগুলোর ক্ষেত্রেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “একটা পরিবেশ তৈরি করা। যাতে সরকারি কাজে গতি আসে। ২ ঘণ্টা কাজ করলাম, বাকি ছেড়ে দিলাম বললে হবে না।”
হুঁশিয়ারির সুরে এও বলেছেন, “সরকারি কাজে ঢিলেমি সহ্য করা হবে না। গড়িমসির জন্য বাংলার ভবিষ্যত যেন নষ্ট না হয়, সেটা দেখার দায়িত্ব কিন্তু সরকারি কর্তাদেরও।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ব্যাঙ লিখছেন না কাকের ট্যাঙ লিখছেন, অনেকে সেটাও দেখেন না। কিন্তু এ জিনিস আর বরদাস্ত করব না। সিরিয়াসলি দেখতে হবে, স্টাডি করতে হবে। আমার কাছেও তো প্রচুর ফাইল আসে। আমি যদি সেগুলো স্টাডি করতে পারি তাহলে সরকারি অফিসাররা কেন করবেন না?”

হুঁশিয়ারির সুরে মনে করিয়েছেন, “কাজ করার জন্য সরকার টাকা দেয়। লালফিতের ফাঁসে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা যাবে না, সময় বদলাচ্ছে, দ্রুত কাজ করার অভ্যস্ততা গড়তে হবে।”
মঞ্চ থেকে শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যেও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “শিল্পপতিদেরও বলব- কেউ কিছু চাইলে দেবেন না। সরকার যখন কাজ করে তখন কারও কাছ থেকে নিয়ে নয়। রেল বিভাগ আমার হাতে ছিল, কেউ আজ পর্যন্ত বলতে পারবে না একটা টাকাও নিয়েছি। স্থানীয়ভাবে কোনও নেতা যদি টাকা চায়, আমাদের কাছে কমপ্লেন করুন। অ্যাকশন হবে।”