কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
“অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে সনাতনী সম্মেলন করব। রাজ্যের পাঁচশোর বেশি সাধু ঐদিন থাকবেন।” এভাবেই আগামী ৩০ এপ্রিল দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের দিন কাঁথিতে সনাতনী সম্মেলনের ডাক দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবার কাঁথি সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সক্রিয় সদস্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে কর্মসূচি ঘোষণা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি স্লোগান তুললেন ‘বয়কট মমতা’। দীঘার জগন্নাথ ধাম উদ্বোধন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উদ্বোধন নিয়ে ফের টেন্ডার, ফের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করবেন চোর মমতা। যে তার ভালো-মন্দ দেখে দেয়, মুলোটা কলাটা যোগাড় করে দেয়, তাকে দিয়ে দিয়েছে টেন্ডার। এই উদ্বোধনে ফের কোটি কোটি টাকা টেন্ডার হয়েছে। সব আত্মসাৎ হবে। উজ্জ্বল সিনা টেন্ডার পেয়েছে। আমার কাছে সব লিস্ট আছে। তিনি আরও বলেন ওই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে সনাতনী সম্মেলন করব। রাজ্যের পাঁচশোর বেশি সাধু ঐদিন থাকবেন।। সারাদিন হোম যজ্ঞ, গীতা পাঠ, ভাগবত কথা, চিন্ময় প্রভুর জন্য প্রার্থনা, মুর্শিদাবাদের আক্রান্তদের জন্য প্রার্থনা। সব হবে। সমস্ত গ্রামে সনাতনী ধ্বজ লাগানো হবে। সকাল ন’টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু।” এদিন জগন্নাথ ধাম উদ্বোধনের দিন কাঁথিতে সনাতনী সম্মেলনে জমায়েত করে বয়কট মমতা বলে ডাক দিলেন শুভেন্দু। কোন রাজনৈতিক পতাকা থাকবে না বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, দিঘায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জগন্নাথ মন্দির স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার পশ্চিমবঙ্গ শাখা। দলের রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য, সরকারি টাকায় মন্দির নির্মাণের ব্যাপারে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। সরকারি টাকায় অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ যদি সাবসিডি পেয়ে নিজেদের তীর্থক্ষেত্রে যেতে পারেন তাহলে সনাতনী হিন্দুদের বেলায় সমস্যা কোথায়?
ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর মতে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান হিন্দুত্বের ধারক ও বাহক হতে পারে না। বরং প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে হবে তারা ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে শ্রদ্ধা করে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতবর্ষ উভয় ক্ষেত্রেই সরকার এবং বিরোধী দলগুলোকে মাথায় রাখতে হবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে গেলে অবশ্যই ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের ভাবাবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করতে হবে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের দেখানো পথে ভারতের সব রাজ্যেই এইভাবে সরকারি উদ্যোগে বড় বড় মন্দির গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন হিন্দুমহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী।