সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

 

“নতুন সভাপতি হয়েছেন। একটু স্বপ্নটপ্নও দেখছেন। ও আসলে কী করতে পারবে, না জেনেই ওকে সভাপতি করেছে। ওদের কোনওটাকেই পাতে দেওয়া যায় না। যেকটা আছে কেউ সভাপতি হওয়ার যোগ্য নয়।” এভাবেই শনিবার শ্রীরামপুর মাহেশে উল্টো রথযাত্রায় যোগ দিতে এসে নতুন বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে তীব্র কটাক্ষ করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপির নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে নিশানা করে তিনি বলেন, “ও কোনওদিন আন্দোলন করেছে? কেউ দেখেছে? সিপিএম আমলে কোথায় ছিল?” তিনি আরও বলেন, “শমীকরা কখনও কোনও রাজনৈতিক আন্দোলনে নামেনি। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই ওরা জেগে উঠেছে। ওরা সব ‘সুখের পায়রা’, শুধু মোদির নামে টিকে আছে। মানুষের সঙ্গে ওদের কোনও সম্পর্ক নেই।”

কল্যাণের মন্তব্যে উঠে আসে বিজেপির সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে একাধিক তীর্যক ইঙ্গিত। তিনি বলেন, “বিজেপি যাদের সভাপতি করছে, তারা কেউই যোগ্য নয়। নিজেদের মধ্যেই গণ্ডগোল, নেতৃত্ব নেই। একবার উপনির্বাচনে জিতেছিল শমীক, তারপর থেকে সব হারে চলেছে।” এদিনের বক্তব্যে কল্যাণ আরও দাবি করেন, “আমাদের নেতৃত্বে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জি। আমাদের সঙ্গে আছে মানুষ। ওদের সঙ্গে আছে ইডি, সিবিআই, কমিশন আর রাজ্যপাল।”

শুধু রাজনীতি নয়, সাংসদ এদিন নিজেই নতুন অ্যাম্বুল্যান্স চালিয়ে তাক লাগিয়ে দেন সকলকে। শেওড়াফুলির নোনাডাঙা অ্যাথলেটিক ক্লাবের জন্য সাংসদ তহবিল থেকে কেনা অ্যাম্বুল্যান্স চালিয়ে উদ্বোধন করেন কল্যাণ। বলেন, “গাড়ি চালানো আমার প্যাশন। ২৫ বছর নিয়মিত চালিয়েছি। সাংসদ হওয়ার পর ছেড়েছি। কিন্তু আজ একটু চালিয়ে নিলাম।”

উল্টো রথের দড়িতে টেনে অংশগ্রহণ করেই থেমে থাকেননি সাংসদ। তিনি রথযাত্রার সঙ্গীতের তালে নিজেই কিছুটা নাচলেন।

অন্যদিকে শ্রমিক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে দায়িত্বে নেওয়ার পরেই এসএসসি এর চাকরিহারারা তার সঙ্গে দেখা করে চাকরি ফেরতের ব্যবস্থা যে আবেদন করেছেন সেই প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভাল করেছে দেখা করে। তবে বিজেপি আর সিপিএম যাদের মামলা করেছে, আগে বলুক তারা যেন মামলা তুলে নেয়। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *