ডিভিসি (DVC) ফের রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে জল ছেড়েছে, আর তার ফলেই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া রবিবার পাঁশকুড়ায় নদীবাঁধ পরিদর্শনে এসে জানান, রাজ্যকে না জানিয়ে ফের ৪৯ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি। এর জেরে কংসাবতী, সুবর্ণরেখা, শীলাবতী এবং রূপনারায়ণ নদীর জলস্তর হু হু করে বাড়ছে।
ঘাটাল সহ চন্দ্রকোনা, দাসপুর ও কেশপুরের বহু এলাকা ইতিমধ্যেই প্লাবিত। ঘাটাল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড জলের নিচে। নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে আরগোড়া এলাকার চাতাল নম্বর ১-এ।
মুখ্যমন্ত্রীর রাত জাগা নজরদারি
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাজ্য কন্ট্রোল রুমে ২১ ঘণ্টা ধরে তদারকি করছেন। প্রতিমুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে কোথায় কতটা জল ঢুকছে, কীভাবে ত্রাণ পৌঁছানো যাবে। সেচমন্ত্রী জানান, তিনি গত দেড় মাস ধরে এলাকা ঘুরে দেখছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকায় ক্ষোভ
মানস ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ২০১৫ সাল থেকে কেন্দ্র নদী সংস্কারের জন্য এক টাকাও দেয়নি। এমনকি ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজের জন্যও কেন্দ্র কোনও বরাদ্দ দেয়নি। রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ১৫৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে এবং ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়েছে।
ত্রাণ ও উদ্ধারে প্রশাসন তৎপর
জলমগ্ন এলাকায় চালু হয়েছে ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ জল সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। বিডিও, এসডিও, জেলা শাসক এবং জলসম্পদ দফতরের আধিকারিকরা সবসময় মাঠে রয়েছেন। রাজ্যের ইমারজেন্সি কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা সচল।
মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা
সেচ মন্ত্রী স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা ধৈর্য ধরুন, সহযোগিতা করুন। সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে নজর রাখছেন। আমাদের প্রধান লক্ষ্য মানুষের প্রাণ রক্ষা করা।”
ঘাটাল বন্যা পরিস্থিতি ২০২৫ সালে আবার একবার রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার উপর বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। একদিকে ডিভিসির জল ছাড়া, অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টি — সব মিলিয়ে মানুষের দুর্ভোগ চরমে। রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়।