সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
সুপ্রিম কোর্টে বড় জয় পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলো সিপিএম। ২০২৫ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগবিধিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীরা। এদিন ২০১৬ সালের বিধিতে নতুন পরীক্ষা করানোর দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের মামলা খারিজ করে দিল ২ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে মামলাকারীদের ভর্ৎসনা করে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানায়, এসএসসির বিধিতে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ নেই, কারণ আদালত কখনোই পুরোনো বিধি অনুযায়ী নিয়োগের নির্দেশ দেয়নি।
মামলা খারিজ করার সময় বিচারপতি অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলাকারীদের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “সুপ্রিম কোর্ট কি জুয়া খেলার জায়গা?”
২০১৬-র পুরো প্যানেল বাতিল করার যে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, সেখানেই বলা হয়েছিল, চিহ্নিত অযোগ্য বাদে বাকি চাকরিহারাদের বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। সেই মতো রায়ের কথা উল্লেখ করেই এসএসসি বয়সে ছাড় দেওয়ার কথা বলেছে এসএসসি। এছাড়া শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে নোটিফিকেশনে। এই দুই বিষয় নিয়েই আপত্তি ছিল চাকরি প্রার্থীদের একাংশের।
হাইকোর্টে বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ শুনানির পর এসএসসি-র বিজ্ঞপ্তিকে মান্যতা দিয়েছিল। এরপর হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মামলাকারীরা। অভিযোগ ছিল, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য দেওয়া ১০ নম্বর থেকে বঞ্চিত হবেন ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীরা।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার বলেন, “টেইনটেডরা (অযোগ্যরা) বাদ হয়ে গিয়েছেন। আনটেনটেডরা (যোগ্যারা) বাড়তি সুযোগ পেলে ক্ষতি কী? তাঁদের তো পড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।”
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, যোগ্য শিক্ষকদের বয়সের ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে, অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রেও কোনও বাধা থাকবে না। আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য আবেদন করেছিলেন, ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদেরও এই ছাড়ের আওতায় আনতে হবে। সেই আবেদন খারিজ করে দেয় বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ এদিন জানিয়ে দিল তারা এই অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবেন না।