সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
শিয়ালদা-রানাঘাট নতুন AC লোকাল ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধনের দিনেই দমদম স্টেশনে দেখা গেল এক বিস্ফোরক পরিস্থিতি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার-কে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগান পালটা স্লোগানে রণক্ষেত্রের রূপ নিল স্টেশন এলাকা।
রবিবার সকালে শিয়ালদা স্টেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন এসি লোকাল পরিষেবা চালু হয়। উদ্বোধনী যাত্রায় সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং সাংসদ জগন্নাথ সরকার। ট্রেন দমদমে পৌঁছতেই সুকান্ত মজুমদার নেমে আসেন এবং বিবেকানন্দের মূর্তিতে মাল্যদান করতে এগিয়ে যান। সেই সময় INTTUC-এর একদল কর্মী ‘জয় বাংলা’ ও ‘বিজেপি বাংলা বিরোধী’ স্লোগান তুলতে শুরু করে।
মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা তাদের মারধর করেছে এবং মহিলা কর্মীদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কর্মীরা দাবি করেন, বাংলায় বাঙালি বিরোধী রাজনীতি মেনে নেওয়া হবে না, তাই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরপিএফ ও কলকাতা পুলিশ দুই পক্ষকে আলাদা করার চেষ্টা করে, তবে উভয় পক্ষই স্লোগান চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সুকান্ত মজুমদার ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরকারি অনুষ্ঠানে গুণ্ডামির অভিযোগ আনেন এবং জানান যে ঘটনার ভিডিও রেলমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক। সম্প্রতি রাজ্যে বাঙালি অস্মিতা ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের হেনস্তা করা হচ্ছে এবং বাংলায় কথা বললেই তাদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও ঘটনাটি যে রাজনৈতিক অগ্নি ছড়াচ্ছে তা স্পষ্ট।
একই অনুষ্ঠানে সুকান্ত মজুমদার শিয়ালদা স্টেশনের নাম বদলে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী স্টেশন করার প্রস্তাবও রাখেন, যা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি সমস্যায় আটকে আছে ৬০টিরও বেশি রেল প্রকল্প এবং এর জন্য দায়ী রাজ্যের সরকার।
দমদমের এই ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। একদিকে বিজেপি অভিযোগ তুলছে যে তৃণমূল সরকারি অনুষ্ঠানকে নোংরা রাজনীতির হাতিয়ার করছে, অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য — বাংলার সম্মান রক্ষায় তারা যে কোনও জায়গায় প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
এই সংঘর্ষ প্রমাণ করে দিয়েছে, আসন্ন দিনে AC লোকাল ট্রেন উদ্বোধন হোক বা যে কোনও সরকারি কর্মসূচি, তা আর কেবলমাত্র প্রশাসনিক অনুষ্ঠান থাকবে না — বরং তা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।