শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা। প্রায় ৩ ঘন্টার বেশি সময় ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কম্বাইন্ড কমান্ডার্স কনফারেন্সে উপস্থিত থাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকেই ফের রওনা দিলেন বিধানসভা নির্বাচনমুখী প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের উদ্দেশ্যে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কম্বাইন্ড কমান্ডার্স কনফারেন্সে যোগ দিতে সোমবার সকালে ফোর্ট উইলিয়ামে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকাল সাড়ে ন’টায় বিজয় দুর্গে পৌঁছান তিনি। বিরাট কনভয় নিয়ে ঢোকেন ফোর্টে। এলাকা মুড়ে ফেলা হয় নিরাপত্তার চাদরে।
সোমবার সকালে ফোর্ট উইলিয়ামে তিনদিন ব্যাপী সেনা সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং, সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ) জেনারেল অনিল চৌহান-সহ বাহিনীর তিন প্রধান-সহ শীর্ষকর্তারা। সূত্রের খবর, এই সম্মেলনে আগামী দু’বছরের সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাহিনীর সংস্কার, রূপান্তর ও পরিবর্তন নিয়ে কথা হয়েছে বলেই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ এবং নেপালের সরকার বিরোধী আন্দোলনের ছেড়ে যেভাবে সরকার পরিবর্তন হয়েছে তার জেরে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের পর এটিই সেনা ও কমান্ডারদের নিয়ে সবচেয়ে বড় বৈঠক। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে কনফারেন্স। মূলত সীমান্ত স্ট্র্যাটেজি ও ভবিষ্যতের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা যাচ্ছে।
বিজয় দুর্গে মোদির এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। একদিকে অশান্ত বাংলাদেশ। অন্যদিকে অস্থির চিন সীমান্ত। তার মধ্যে আবার নেপালে পালাবদল। দিনকয়েক আগে বাংলাদেশে বিমানঘাঁটি তৈরি করতে চলেছে চিন বলে একটি খবর ছড়ায়। ঘাঁটিটি নাকি আবার তৈরি হবে চিকেনস নেকের কাছেই। সবমিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিরাট এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পরিবর্ত পরিস্থিতিতে ‘তিন ফ্রন্টে’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনার স্ট্র্যাটেজি কী হবে, কতটা প্রস্তুত বাহিনী, তা এদিন খতিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। ‘সুপারস্পাই’ অজিত ডোভালের এই বৈঠকে থাকাও ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছে সমর বিশেষজ্ঞরা। ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তরকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি হিমালয় অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
এই সম্মেলনের মূল থিম হলো ‘ইয়ার অফ রিফর্মস – ট্রান্সফর্মিং ফর দ্য ফিউচার’। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের সামরিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরের এই সম্মেলনে আর্মি, নেভি এবং এয়ারফোর্সের কমান্ডাররা একত্রিত হয়ে জাতীয় নিরাপত্তা, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং সংস্কার নিয়ে আলোচনা করবেন। এবারের বৈঠকের মূল ফোকাস থাকবে রিফর্মস, ট্রান্সফরমেশন এবং অপারেশনাল প্রিপেয়ার্ডনেসের উপর।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইন্ডিয়ান আর্মড ফোর্সেস ভিশন ২০৪৭ – নামক এক নতুন নথি উন্মোচন করেছেন, যা ভবিষ্যতভিত্তিক ও প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী গঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী রাস্তা নির্দেশ করবে।
অন্যদিকে, কলকাতায় সেনা বৈঠক সেরে আজ বিহারের পূর্ণিয়ায় এক জমকালো অনুষ্ঠানে সম্বর্ধনা গ্রহণ করেন। তিনি প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি জানান, এই প্রকল্পগুলি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পূর্ণিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে আধুনিক সড়ক নির্মাণ, রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন। এছাড়াও, কৃষি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিহারের উন্নয়ন আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। পূর্ণিয়ার মতো অঞ্চলগুলিকে আমরা সমৃদ্ধির কেন্দ্রে পরিণত করতে চাই।