সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘মানবসেবার কর্তব্যকে শিরোধার্য করে, স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক অধিকারকে নিশ্চিত করতে আমি ‘সেবাশ্রয়’-এর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। ডায়মন্ড হারবার লোকসভার সকল নাগরিক-সহ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য-পরিষেবা দিতে পেরে আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে খুশি হয়েছিলাম। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও ভরসার নির্ভরযোগ্য সেবাস্থল হয়ে উঠেছিল ‘সেবাশ্রয়’। কথা দিয়েছিলাম, আবারও এই ‘সেবাশ্রয়’ ফিরবে।’ নিজের জন্মদিনে বিপুল সংখ্যক মানুষের শুভেচ্ছার মধ্যেই এমন ঘোষণা করলেন তৃনমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে স্বাস্থ্য শিবির। চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভাগুলিতে কোথায় কতদিন এই স্বাস্থ্য শিবির চলবে, তা জানিয়েছেন অভিষেক। এছাড়াও ৭ দিন মেগা ক্যাম্প হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ডায়মন্ড হারবারে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবির শুরু হয়েছিল। চলেছিল ৭৫ দিন। এর মধ্যে ৫ দিন মেগা ক্যাম্প হয়েছিল। ১২.৩ লক্ষ মানুষের কাছে এই স্বাস্থ্য শিবিরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে তৃণমূলের বক্তব্য।
প্রথমবার সেবাশ্রয়ের সেই উদ্যোগ নিয়ে তিনি জানান, ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বাস্থ্য শিবিরগুলি চলবে। আর ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবারের সমস্ত বিধানসভায় চলবে মেগা ক্যাম্প। স্বাস্থ্য শিবিরগুলি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চালু থাকবে। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক লেখেন, ‘সাধারণ মানুষের সেবা এবং আর্ত-দুঃস্থ মানুষের আশ্রয় – এই আদর্শকে পাথেয় করেই দ্বিতীয়বারের ‘সেবাশ্রয়’ ফিরছে আপনাদের জন্য।’ সব শেষে তিনি লেখেন, ‘সকলের সুস্বাস্থ্য, আমাদের অঙ্গীকার।’ ‘সেবাশ্রয় ২’-এর মূল লক্ষ্য— গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার মানুষ যেন বিনা খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পান। আগের বারই এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ পেয়েছিলেন ওষুধ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা। এবার উদ্যোগ আরও বড়, আরও বিস্তৃত।
অভিষেকের ভাষায়, ‘সাধারণ মানুষের সেবা এবং আর্ত-দুঃস্থ মানুষের আশ্রয়— এই আদর্শকেই পাথেয় করে দ্বিতীয়বারের ‘সেবাশ্রয়’ ফিরছে আপনাদের জন্য।’
সেবাশ্রয়-২ নিয়ে কটাক্ষ করে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘সেবাশ্রয়ের পয়সাটা কোথা থেকে আসছে? উনি তো বলেছেন, ওঁর রোজগার নেই। কোন কোন জায়গা থেকে রোজগার করেন, সেটা বাংলার মানুষকে জানাবেন না? তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। তবে তার চেয়েও আমাদের কাছে বড় বন্দেমাতরমের ১৫০তম বর্ষপূর্তি।’