সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যা করে মৃত অথবা অসুস্থদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্ন সভার ঘরে গত ১৫ বছরের রাজন তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য বড় ঘোষণা করে মমতা বলেন, ‘এসআইআরে যাঁরা আতঙ্কে, আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছে। ৩৯ জন মারা গিয়েছে। ১৩ জন হাসপাতালে সঙ্কটজনতক অবস্থায় রয়েছে, তার মধ্যে বিএলও রয়েছে। যাঁরা মারা গিয়েছে তাঁদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দিয়ে দাও। আর যাঁরা সঙ্কটজনক তাঁদের ১ লক্ষ টাকা করে দিয়ে দাও। ওদের পরিবার যেন ভাবে সরকার তাঁদের দুর্দিনে পাশে আছে।’
পাশাপাশি মমতা বলেন, ‘আমি প্রতিটা জেলা প্রশাসনকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। আপনারা ইলেকশনের কাজ যেমন করছেন করুন। কিন্তু এটা হচ্ছে উন্নয়নের কাজ। আমরা কিছু ক্ষেত্রে মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগের কাজ যা চলছে চলবে, কিন্তু নতুন যে কাজগুলি দেওয়া হয়েছে সেগুলি চটপট করে ফেলুন। আপনারা যারা ভাল কাজ করবেন তাঁদের জন্য বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে। মন্ত্রীদের বলব লক্ষ্য রাখতে। যাঁরা ডিপার্টমেন্ট লিড করেন, তাঁদের উপরেও অনেকটা নির্ভর করছে। আমার প্রত্যেকটা অফিসার খুব ভাল।’ এরপরই মুখ্যসচিবের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সিএস-কে বলব এই কাজগুলি ঠিক মতো মনিটর হচ্ছে কিনা তা দেখতে। ১০ সিনিয়র অবজার্ভার তো পাঠাচ্ছি। তাছাড়া রাজ্যের তরফে একটা মনিটরিং টিম রাজ্যের তরফে করে নেওয়া হোক।’
আর সেই প্রসঙ্গেও ফের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা টেনে আনেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনা, দুর্যোগ, দুরারোগ, দুর্ভোগ, সবেতেই থাকি। এটা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। জানি টাকা-পয়সা পাচ্ছি না আমরা। অনেক অসুবিধা হচ্ছে সংসার চালাতে। মহিলারা সংসারও চালায়, আবার সরকারও যখন চালায়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতোই কী ভাবে ম্যানেজ করা যায়, সেটা ভাইবোনেরা মিলে মিলিত ভাবেই করে। আমরাও সেভাবেই করছি। অনেক যন্ত্রণা, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বলব, অনেক ধন্যবাদ আপনারা আমাদের টাকা আটকে রেখেছেন তার জন্য। তাতেও মনে রাখবেন, যতই অত্যাচার, অপপ্রচার, কুৎসা, চক্রান্ত করুন, আমরা কিন্তু আপনাদের সঙ্গে সহযোগিতা চাই, অসহযোগিতা নয়। আশা কির এটুকু শুনতে পাচ্ছেন আপনারা। এটা সরকারি বৈঠক। তাই যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে বলেই আশা করা হয়। শুধু ঝগড়া নয়।’
সাম্প্রদায়িক নয়, তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতি করেন বলেও জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘যাঁরা বিরোধিতা করেন, তাঁদের ধন্যবাদ। যাঁরা ভালবাসেন, তাঁদের কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব, যতদিন বেঁচে থাকব। যতদিন থাকবে শ্বাস, ততদিন থাকবে আশ্বাস, ততদিন থাকবে বিশ্বাস, ততদিন থাকবে বিশ্বাস, ত দিন থাকবে ভরসা।। সব ধর্ম, সব বর্ণের…আমি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করি না, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি করি। আমি সংবিধান মানি, তাই সর্বধর্মের মানুষকে সম্মান করি। বাংলায় সবার জন্য নিরাপত্তা রয়েছে। এখানে কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্প গড়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে দিই না, দুর্ভোগে ফেলি না। বাংলার মানুষ বাংলায় ভাল থাকুন। আমরা যেমন অন্য রাজ্যের ব্যাপারে নাক গলাই না। তেমনই কেন্দ্রীয় সরকার, দয়া করে কিছু বলার থাকলে রাজ্যকে বলবেন। এমন হুলিয়া জারি করবেন না, যা ব্রিটিশরা করত। জোর করে নির্দেশ চাপিয়ে দেবেন না, যাতে মানুষের ক্ষতি হয়। আমরা মানুষকে সাহায্য় করবই, আমরা গণতন্ত্র, সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ।’