সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
হুগলির সিঙ্গুরের নার্সিং পড়ুয়া দীপালি জানা (Dipali Jana)-র মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘ বিতর্কের পর অবশেষে কল্যাণী এইমসের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে দীপালি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তাঁর দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। অর্থাৎ বিরোধীদের খুনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই রিপোর্ট সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সরাসরি বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেন – “শকুনের রাজনীতি করছে বিরোধীরা। মৃত্যু নিয়ে নোংরা রাজনীতি করার জন্য তাঁদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ময়নাতদন্ত
দীপালি জানার মৃত্যুর পরই পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে, ময়নাতদন্ত যেন কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন কোনও হাসপাতালে করা হয়। পরিবারের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে অবশেষে কল্যাণী এইমসে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ময়নাতদন্ত হয় মেজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে।
চার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ময়নাতদন্ত করেন।
পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে ময়নাতদন্ত। অবশেষে রিপোর্টে জানানো হয় যে অ্যান্টেমর্টেম হ্যাঙ্গিং-এর কারণে মৃত্যু হয়েছে দীপালির।
বিরোধীদের অভিযোগে ফাঁস বিরোধ
নার্সের মৃত্যুর পর থেকেই বিরোধী শিবির দাবি করছিলেন যে তাঁকে খুন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিরোধীরা পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে দেহের ময়নাতদন্ত কেন্দ্রীয় হাসপাতালে করানোর দাবি তোলে।
কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই মৃত্যু আত্মহত্যা। দেহে কোনও শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ নেই। ফলে বিরোধীদের করা অভিযোগ যে শুধুই রাজনৈতিক প্রচারের উদ্দেশ্যে, তা প্রকাশ্যে এসেছে।

কুণাল ঘোষের তীব্র প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। কিন্তু বিরোধীরা মৃতদেহ দখল করতে গিয়ে যে কুৎসিৎ রাজনীতি করেছে তা লজ্জাজনক। এখন যখন সত্য সামনে এসেছে, তাঁদের উচিত নাকখত দিয়ে ক্ষমা চাওয়া।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে বিজেপি ও বিরোধী জোট শুধু রাজনীতি করার জন্য ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
BJP conspiracy exposed – সিঙ্গুরের নার্স দীপালি জানার মৃত্যুকে ঘিরে বিরোধীরা যে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিল, তা কল্যাণী এইমসের রিপোর্টে ধোপে টেকেনি। আত্মহত্যার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর এখন বিরোধীদের ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।