সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যা হয়েছে তার এক ঘণ্টার মধ্যে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছেন। ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পুলিশকর্তা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে। তার পরেও আমাদের কেন বারবার প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হচ্ছে?’ ব্যক্তিগত কাজে কয়েক দিন বিদেশে থাকার পরে মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতের মাটিতে পা দিয়েই যুবভারতী কান্ড নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনার তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে। গঠিত হয়েছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। শোকজ হয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, সাসপেন্ড হয়েছেন বিধাননগরের পুলিশ কর্তা। সর্বোপরি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘ঝুঁকতা ওহি হ্যায়, জিসমে জান হ্যায়…।’ ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময়েই তাঁর রাজ্যে ঘটে গিয়েছে যুবভারতীকাণ্ড।
অভিষেক বলেন, ‘বাংলা যা হয়েছে, এক ঘণ্টার মধ্যে মুথ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছেন। আমরা জনতার সামনে নত হয়েছি। যাঁরা অভিযুক্ত, সেই পুলিস অফিসার থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোন অধিকারে আমাদের প্রশ্ন করছেন যে, সুকান্ত মজুমদার এই বলেছে, বিজেপি ওই বলেছেন’। তাঁর আরও বক্তব্য. ‘ওদের বলুন না , কালো টাকা ফিরেছে? ১০ বছর হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রী তো বলেছিলেন, ৫০ দিনে না হলে যা সাজা দেবেন, মেনে নেব। হিম্মত আছে প্রশ্ন করার? কুম্ভে কত লোক মরে গেল, দেশের সামনে এসে ক্ষমা চেয়েছে? ওরা আমাদের প্রশ্ন করবে? এইজন্য বিজেপি হারে। আর তৃণমূল হারায়।’
দেশে ফিরে এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কুম্ভ মেলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘চলতি বছর কুম্ভ মেলায় যখন বহু মানুষের মৃত্যু হয়, তখন তো কেউ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়নি প্রধানমন্ত্রী বা যোগী আদিত্যনাথকে?’ তাঁর সংযোজন, ‘গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে। সেই নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠেছে? এই ঘটনায় কোনও বিজেপি নেতাকে একটি প্রশ্নেরও সম্মুখীন হতে হয়েছে? কোনও তদন্তও হয়নি। কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। এমনকি, ক্ষমাও চাওয়া হয়েনি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তদন্ত কমিশন ছাড়ুন, গ্রেফতারি ছাড়ুন, সব কিছু ছাড়ুন। আপনারা দেশের সামনে ক্ষমাও চাননি। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা, এমনকি মন্ত্রী পর্যন্ত-সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
অন্য এক প্রসঙ্গে, অভিষেক জানান যে, পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন, তবে এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। মঙ্গলবার রাজ্যে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তিনি জানান, বাংলায় যে প্রক্রিয়ায় এসআইআর হয়েছে, তাতে তিনি খুশি নন। নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনার জন্য বহু বিএলও’র মৃত্যু হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার জন্য দু’বছর সময় লাগার কথা, তা দু’মাসে করতে বলা হচ্ছে। যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁরাও নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করেছেন। অভিষেক বলেন, ‘ডানকুনি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলারকে কমিশন ‘মৃত’ বলে দিল। অথচ তিনি বেঁচে রয়েছেন। এটি একটি অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া।’
এদিন বিজেপির উদ্দেশেও তোপ দেগেছেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি শুধু সমাজে বিভাজনে বিশ্বাসী। সিএএ নিয়ে বিজেপি মিথ্যাচার করছে। তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন, ২০১৯ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত কতজনকে সিএএ’র অধীনে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে? সেই তালিকা প্রকাশ করা হোক। অসমে যখন এনআরসি হয়েছিল, কতজন মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল আর এখন তাঁরা কোথায় রয়েছেন? ২০০২ সালের তালিকায় বাবা-মায়ের নাম থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। তারপর আদালতের নির্দেশে তাঁদের ফেরানো হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদ এদিন বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ওদের এসআইআর-এফআইআর করতে দিন। তৃণমূলের ভোট আরও বাড়বে। যদি তা না হয়, তাহলে ওরা যা বলবে, আমি করব। আর আমাদের ভোট যদি বাড়ে, তাহলে বিজেপি যে রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে, তা দেবে। বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমাও চাইতে হবে।
মনরেগা প্রকল্পের বকেয়া টাকা নিয়ে তৃণমূলের লড়াই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘মনরেগা নিয়ে আমরা যে লড়াই চালিয়েছি, তা সবার জানা। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি দাখিল করেছিল, যা খারিজ হয়ে যায়। আমরা মানুষের জন্য সংসদে এই আওয়াজ তোলা জারি রাখব।’