সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন সোনালি খাতুন। সোমবার সকালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। বর্তমানে মা ও নবজাতক দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে সদ্যোজাত ও প্রসূতিকে দেখে আসেন রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম।
সোনালি ও তাঁর সদ্যোজাত পুত্রসন্তানকে শুভেচ্ছা জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লেখেন, ‘তিনি যে অবিচারের শিকার হয়েছিলেন, তার প্রেক্ষিতে এই আনন্দের মুহূর্ত আরও বেশি গভীর মনে হয়। আগামিকাল (৬ জানুয়ারি) আমি বীরভূম সফরে যাচ্ছি। সোনালি ও তাঁর নবজাতককে শুভেচ্ছা জানাতে আমি ব্যক্তিগত ভাবে হাসপাতালে যাব।’
সোনালি খাতুনের বাড়ি বীরভূম জেলার পাইকর এলাকায়। কর্মসূত্রে তিনি দীর্ঘদিন দিল্লিতে বসবাস করছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসে একটি বিতর্কিত ঘটনায় সোনালি খাতুন, তাঁর স্বামী, নাবালক সন্তান এবং আরও তিনজনকে দিল্লি পুলিশ অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁদের হয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত একাধিক দফায় মামলা চলে।
আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে বাংলাদেশ আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেয় সকলকে। তবে তখনই দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই সোনালি খাতুন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এবং মানবিক দিক মাথায় রেখে দিল্লির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মালদা সীমান্ত দিয়ে সোনালী খাতুন ও তাঁর নাবালক সন্তানকে ভারতে পাঠায় বাংলাদেশ প্রশাসন। যদিও তাঁর স্বামী এখনও বাংলাদেশেই আটকে রয়েছেন।
রবিবার প্রসবযন্ত্রণা শুরু হলে সোনালি খাতুনকে দ্রুত রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সোমবার সকালে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মা ও শিশুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। এদিন হাসপাতালে গিয়ে সোনালি খাতুন ও নবজাতককে দেখে রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘দেখে এলাম, মা ও সন্তান দু’জনেই ভালো আছেন। আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি টুইট করে সবাইকে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি নিজে হাসপাতালে এসে মা ও নবজাতককে দেখবেন।’ তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার চাইছিল পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে সন্তানের জন্ম হোক। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের পর সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।