বিতস্তা সেন। কলকাতা সারাদিন।
বাড়িতে ১৯ বছরের মেয়ে থাকা সত্ত্বেও মেয়ের থেকে মাত্র বছর দুয়েকের বড় ২১ বছর বয়সী প্রাইভেট সেক্রেটারিকে বিয়ে করেছেন বিজেপির বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে রাতারাতি এভাবে প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও নিজের বয়সের তিন ভাগের এক ভাগ বয়সী একটি মেয়েকে অবৈধভাবে বিয়ে করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের অথবা মামলার পাশাপাশি নয়া বিতর্কে ফেঁসেছেন বিজেপির খড়্গপুরের বিধায়ক।
২০২১ সালের মে মাসে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক হিসেবে জিতে আসার পর থেকে এই রাতারাতি নাকি সুন্দরী মডেল ঋতিকা গিরির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। যার সুযোগ হয়ে যায় খড়্গপুরে বিধায়কের দপ্তর খুলে রাখার সুবাদে। পার্টি অফিসের মধ্যেই নাকি তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতা পায় বলে জানা গিয়েছে।
তবে এবারে কিন্তু রীতিমতো এটমবোমা ফাটিয়ে দিলেন হিরনের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি তিনি ২০২১ সালের একটি ছবি সংবাদমাধ্যমের সামনে এনে পাস করে দিয়েছেন কিভাবে 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বর্তমান বউ ঋতিকার কাছে ভাইফোঁটা নিয়েছিলেন ‘দাদা’ হিরন।
যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, ঋতিকা হিরণকে ভাইফোঁটা দিচ্ছেন। আর সেই ছবি ঘিরেই প্রশ্ন তুলেছেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি যে, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে যদি ঋতিকা হিরণকে ভাইফোঁটা দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁদের পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের দাবি কীভাবে সত্য হয়?
অনিন্দিতার বক্তব্য যে, ছবিটি হিরণের খড়্গপুরের বাড়িতেই তোলা। তাঁর কথায়, “ভাই হিসেবে ভাইফোঁটা দেওয়ার পরে আবার সেই ব্যক্তিকেই বিয়ে করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিষয়টা ভাবতেই কেমন অস্বস্তি লাগছে।”
সকলের কাছে নাকি ঋতিকা গিরি-কে হিরণ পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ‘ছোট বোন’ বলে।
অনিন্দিতা জানিয়েছেন যে, গত কয়েক বছর ধরে হিরণ নিয়মিত খড়্গপুর এবং কলকাতার বাড়ির মধ্যে যাতায়াত করতেন। তাঁদের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কখনওই ছিল না। এমনকি ২০২৪ সালে তাঁরা বিদেশ সফরেও গিয়েছিলেন বলে দাবি অনিন্দিতার। সেই সময়ই প্রথম ঋতিকা সম্পর্কে কানাঘুষো শুনেছিলেন তিনি। তবে তখন হিরণ তাঁকে বলেছিলেন যে, ঋতিকা নাকি তাঁকে ভয় দেখাচ্ছেন। স্বামীর কথায় বিশ্বাসও করেছিলেন প্রথম স্ত্রী।

তবে সম্পর্ক যে একদমই মসৃণ ছিল না, সেটাও স্বীকার করেছেন অনিন্দিতা। তাঁর অভিযোগ যে, এই কয়েক বছরে তাঁর এবং তাঁর মেয়ের উপর মানসিক চাপ ও অনেক অত্যাচার হয়েছে। যদিও এতকিছু বিতর্কের মাঝেও এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি হিরণ চট্টোপাধ্যায়। এখন তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়েও উঠতে শুরু করেছে নানারকমের প্রশ্ন।