প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
সময় বদলালে মানুষ বদলায়, বদলায় রাজনীতির হিসেবও। উত্তর ২৪ পরগনার শাসন এলাকার রাজনীতিতে যাঁর নাম একসময় দাপটের সঙ্গে উচ্চারিত হত, সেই একদা সিপিএম নেতা মজিদ মাস্টার আজ কার্যত ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। আর সেই সুরে স্পষ্ট—বিজেপিকে রুখতে গেলে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র বাস্তব রাস্তা।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মজিদ মাস্টার অকপটে স্বীকার করেছেন, গত দু’বছরে তিনি যতবার ভোট দিয়েছেন, প্রতিবারই তাঁর ভোট পড়েছে জোড়াফুল চিহ্নে। কোনও রাখঢাক না রেখেই তিনি বলেছেন, “তৃণমূলকে ভোট দিলে ভোট নষ্ট হবে না—এই বিশ্বাস থেকেই আমি ভোট দিয়েছি।”
বিজেপি বিরোধিতাই মূল কারণ
মজিদ মাস্টারের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে বিজেপি বিরোধিতার প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, বিজেপি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্যও বিপজ্জনক। তিনি বলেন, “ভারতজুড়ে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত ভয়ংকর জায়গায় পৌঁছেছে। ওরা গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল করছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে আটকানোর ক্ষমতা এই মুহূর্তে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসেরই আছে।”
এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে বাম শিবিরের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ, যিনি একসময় সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি শাসনে দলের মুখ ছিলেন, আজ তিনিই প্রকাশ্যে তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে কুর্নিশ
শুধু তৃণমূল নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লড়াইয়েরও প্রশংসা করেছেন মজিদ মাস্টার। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মজিদ মাস্টারের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। সব কাজের সঙ্গে আমি একমত না হলেও, অনেক কাজই আমার ভালো লাগে। এসআইআর ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে যেভাবে উনি দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন বার্তা
একসময় বাম জমানায় মজিদ মাস্টারের নাম শুনলে শাসনের বড় বড় নেতারাও সাবধানে পা ফেলতেন। সেই মানুষটির মুখে আজ মমতার প্রশংসা এবং তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি নিঃসন্দেহে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ভোটের মুখে এই ধরনের মন্তব্য বামেদের জন্য অস্বস্তির হলেও, তৃণমূলের কাছে তা বাড়তি অক্সিজেন। কারণ, এটি শুধু একজন নেতার মত বদল নয়—এটি রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, মজিদ মাস্টারের বক্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—বাংলার রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে বাস্তব সমীকরণই এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। আর সেই বাস্তবতায় বিজেপিকে ঠেকাতে জোড়াফুলই অনেকের কাছে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।