সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন। পুরুলিয়া।
“১০ দিনের মধ্যে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে স্টেটে কেস ট্রান্সফার করে দিক, ৫০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে দেখাব।” এভাবেই BJP শাসিত ডাবল ইঞ্জিন মহারাষ্ট্রের পুনেতে পুরুলিয়ার বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলায় কথা বলার অপরাধে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় দাবি তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতকাল মমতাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি তুলেছিলেন অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আজ পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে নিহত পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ান অভিষেক। BJP নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের শাসনে থাকা মহারাষ্ট্রে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে নৃশংসভাবে হত্যা করার পরেও তার দেহ বাড়িতে নিয়ে আসার ব্যাপারে সমস্যা হওয়ায় অভিষেকের নজরদারিতে দেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। আজ অভিষেক বান্দোয়ানে সুখেনের বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই সুখেনের মৃতদেহ মহারাষ্ট্র থেকে নিয়ে এসে পৌঁছার তাঁর দুই ভাই।
সুখেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পরে অভিষেক বলেন, “২০০৯ সাল থেকে নিহত ও তাঁর ২ ভাই মহারাষ্ট্রের ওই কোম্পানিতে কাজ করছে। প্রতিদিন সাড়ে তিনটের শিফট থাকত সুখেন মাহাতোর। ঘটনার দিন তিনটে নাগাদ কাজে যাবে বলে বেরিয়েছিল। সন্ধ্যায় দাদা ফোন করেন সুখেনকে। ফোনে পাননি। এরপর পুলিশ ফোন করে জানায় সুখেন অসুস্থ। দাদা গিয়ে দেহ দেখতে পান। শরীরের একাধিক জায়গায় ক্ষতচিহ্ন। তাতেই স্পষ্ট খুন করা হয়েছে। কীভাবে মারা গিয়েছেন সুখেন বলতে পারব না। তবে আমার বিশ্বাস প্রকৃত তদন্তে সে তথ্য উঠে আসবে। পুনে থেকে দেহ ফেরানো নিয়ে সমস্যা হয়। একবার বলছে ময়নাতদন্ত হবে। একবার বলছে থানায় যেতে হবে। আমরা খবর পাওয়ামাত্র অভিভাবকের মতো ওঁর দাদার পাশে এসে দাঁড়াই। দেহ ফেরানোর জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করি।”
সুখেনের দুই ভাই ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানিয়েছেন শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে সুখেনকে।
BJP শাসিত রাজ্যে বাঙালি হত্যার প্যাটার্ন
বিষয়টি বিচারাধীন বলে নির্দিষ্ট অভিযোগ না করেও গত কয়েক মাসে যেভাবে দেশের একের পর এক BJP শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাঙ্গালীদের হেনস্থা করা হচ্ছে এবং পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটে চলেছে, সেই প্রসঙ্গে অভিষেকের অভিযোগ, গত ৬-৮ মাসে যে প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা ভয়ঙ্কর। এই মৃত্যু কী কারণে হয়েছে তা জানি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ। তবে খুন, রাহাজানি যা হচ্ছে সবই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে। বাংলায় বাইরের রাজ্যের অনেকেই কাজ করেন। তাঁদের উপরে কখনও অত্যাচার হয়নি। আমরা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে বিশ্বাসী। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। সমাজে থাকার অধিকার নেই দোষীদের।

আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
এই ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির জন্য আইনি লড়াইয়ে নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমি শুনেছি ১ জনকে গ্রেফতার করেছে। আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছে। যারা এর সঙ্গে যুক্ত যাতে তারা জেলের পর বেল না পান, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে যেতে হলে যাব। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতেই হবে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অন্য রাজ্যের কাউন্টারপার্টের সঙ্গে কথা বলবেন। অভিযুক্তরা ধরা পড়লে যাতে জামিন না পায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। অপরাধীর জামিন হয়ে গেলে তা বাতিলের আবেদন জানাতে হবে।

দুই ভাইকে চাকরির আশ্বাস
নিহত সুখেনের দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরেই ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। বাংলায় তাদের চাকরি বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার জন্য তিনি চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে অভিষেক বলেন, আমরা দলগতভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং আমাদের দলনেত্রীর কাছে তাঁদের আবেদন রাখব , দু’ভাইয়ের যেন চাকরি বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আমাদের মানবিক রাজ্য সরকার যত দ্রুত সম্ভব এখানেই করে দেন। যাতে তাঁরা পুরুলিয়ার মাটিতেই থাকতে পারেন।
ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ
বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে যেভাবে সুখেনকে ভাজপা শাসিত ডাবল ইঞ্জিন মহারাষ্ট্রে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবাদে আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার পুরুলিয়ার প্রত্যেকটি ব্লকে প্রতিবাদ মিছিল বের করার নির্দেশ দেন অভিষেক।