সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার কর্মহীন যুবক-যুবতীদের জন্য বড় ঘোষণা। এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হচ্ছে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প। অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, অগস্ট নয়—এপ্রিল থেকেই মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবেন যোগ্য যুবক-যুবতীরা।
কীভাবে আবেদন করবেন? কারা পাবেন এই সুবিধা? কী কী নথি লাগবে? রইল সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ গাইড।
কারা পাবেন যুব সাথী প্রকল্পের অর্থসাহায্য?
এই প্রকল্প মূলত কর্মহীন যুবকদের জন্য। শর্তগুলি হলো :
আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ কর্মহীন হতে হবে।
সর্বাধিক ৫ বছর পর্যন্ত এই আর্থিক সাহায্য পাওয়া যাবে।
স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ, রূপশ্রী বা শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের সুবিধাভোগীরাও আবেদন করতে পারবেন।
অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও যদি স্থায়ী কর্মসংস্থান না থাকে, তাহলে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

কারা এই সুবিধা পাবেন না?
সরকারি বা বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না। এছাড়া রাজ্যের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প—যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক ভাতা—যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না।
সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, একই সঙ্গে একাধিক আর্থিক অনুদান নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
কীভাবে আবেদন করবেন?
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। ‘দুয়ারে সরকার’-এর ধাঁচে এই ক্যাম্প থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে।
প্রক্রিয়াটি হবে এইভাবে—
নির্দিষ্ট ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে
প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে ফর্ম জমা দিতে হবে
যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন মিললে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে
অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অফলাইন ক্যাম্পের মাধ্যমে হবে।
অনলাইনে ফর্ম কীভাবে ডাউনলোড করবেন?
এই মুহূর্তে সরাসরি অনলাইন আবেদন চালু করা হয়নি। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্য সরকারের যুব ও ক্রীড়া দপ্তরের ওয়েবসাইট—
www.wbsportsandyouth.gov.in�
থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করা যাবে।
প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে—যুব সাথী প্রকল্পের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট বা পোর্টাল তৈরি হয়েছে। তাই সরকারি ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
আবেদন করতে কী কী নথি লাগবে?
আবেদন করার আগে নিচের নথিগুলি প্রস্তুত রাখুন—
আধার কার্ড
মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য
সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
সক্রিয় মোবাইল নম্বর (ওটিপি ও স্ট্যাটাস আপডেটের জন্য)
সব নথির ফটোকপি সঙ্গে রাখলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে।
টাকা কীভাবে পাবেন?
এই প্রকল্পের অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। আবেদন গৃহীত হলে মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
যতদিন পর্যন্ত উপভোক্তা কোনও কর্মক্ষেত্রে যুক্ত না হচ্ছেন, ততদিন—সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত—এই সুবিধা পাবেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?
রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে যুব সাথী প্রকল্প কর্মহীন যুবকদের জন্য অন্তত আর্থিক স্বস্তি দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মাসে ১,৫০০ টাকা বড় অঙ্ক না হলেও, প্রস্তুতি নেওয়া, পরীক্ষা দেওয়া বা চাকরির খোঁজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুব সাথী প্রকল্প বাংলার কর্মহীন শিক্ষিত যুব সমাজের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলছে। আবেদন করার আগে শর্তগুলি ভালোভাবে পড়ুন, সঠিক নথি প্রস্তুত রাখুন এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রে ভরসা করুন।