সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এখনো পর্যন্ত বাংলা জুড়ে মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বুথ লেভেল অফিসারদের। আরো অন্তত এক কোটির বেশি মানুষ এখনো আতঙ্কে রয়েছেন তাদের ভোটাধিকার থাকবে কিনা অথবা আদৌ তারা ভারতবর্ষে থাকতে পারবেন কিনা। এই সমস্ত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষের বৈধ ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াইয়ে ধর্মতলায় ধরনা অবস্থানে বসেছেন মমতা। আজ পঞ্চম দিনেও মমতার এই প্রতিবাদ ধরনায় শামিল হতে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন অসংখ্য মানুষ।
সকাল থেকেই যেখানে কলকাতায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রয়েছেন, তাকে বৈধ ভোটারদের নাম কাটার জন্য মমতা অনেক আগে থেকেই ভ্যানিশ কুমার বলে ডাকেন। আজ তাই সেই ভ্যানিশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকি প্রতিবাদ জানাতে ধারনা মঞ্চেই রং তুলি এবং ক্যানভাস হাতে তুলে নিলেন মমতা। ক্যানভাসে ইংরেজি হরফে এসআইআর লিখে তারপরে লিখলেন ভ্যানিশ! ছবির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মমতা নিজে বলেন, এই ছবিটা প্রতীকী। আমাদের শিল্পীরা আঁকছেন।এসআইআরে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, মানে সমস্ত ডেডবডি ভ্যানিশ করে দিয়েছে, সেই জন্য পাশে দুটো মালা রাখা, যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য দিয়ে মালাগুলি রাখা আছে। এটা প্রতীকী। অন্য কিছু নয়।
মমতার পাশে মতুয়া সমাজ
গত কয়েকটি নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদীয়ার মতুয়ার সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টির নেতাদের আশ্বাসে নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় ভোট দিয়েছিল ভাজপা প্রার্থীদের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে সেখান থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে কয়েক লক্ষ মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম। গত শুক্রবার থেকে মমতার এই প্রতিবাদ ধরনা শুরু হওয়ার পর থেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ছুটে আসছেন মমতার কাছে। আজকেও বিশাল মিছিল করে ঢাকঢোল পিটিয়ে মমতার মঞ্চে আসেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তাদের আসতে দেখে মঞ্চ থেকেই মমতা বলেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি বড় মিছিল আসছে। আমরা তাঁদের ভোটাধিকার দাবি করছি। মতুয়া, রাজবংশী, হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান— সকল বৈধ ভোটারের জন্য আমরা ভোটাধিকারের দাবি করছি। মতুয়া সম্প্রদায়ের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট নবীন বিশ্বাস বলেন, অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। মতুয়ারা। আমার পূর্বপুরুষদের কোনও ভোটাধিকার ছিল না। আমরা হরিচাঁদ-গুরুচাঁদের আন্দোলনের ফলে ভোটাধিকার পেয়েছি। যে রাজনৈতিক দল কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন, তারা ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করছি।

মমতার প্রতিবাদ মঞ্চে আসেন ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণব সমাজের প্রতিনিধিরা। ব্রাহ্মণ সমাজের প্রেসিডেন্ট ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের চারটি সংগঠন আছে পশ্চিমবঙ্গে। আজকে ব্রাহ্মণ সমাজ মাসে মাসে অনুদান পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ২ কোটি মানুষ ব্রাহ্মণ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। সেই দু’কোটি মানুষের ভোট, সেই ভোট নিশ্চিতরূপে দিদির কাছে যাবে। মহান নেত্রী আমাদের অধিকারের জন্য সময় দিয়েছেন।