শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোষণ নীতি ও ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির কারণেই আজ বাংলার তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। প্রকৃত যোগ্যরা যেখানে সরকারি চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন না, সেখানে ভূয়ো সার্টিফিকেটধারীরা সংরক্ষণের সুবিধা ভোগ করছেন।” তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে ভুয়ো ওবিসি সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ভোটে জেতার অভিযোগ প্রমাণিত হতেই বোমা ফাটালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ভূয়ো ওবিসি শংসাপত্রে পঞ্চায়েত প্রধান বনে গেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের খুকুরানি মণ্ডল ঘোড়ুই, শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন : “বঙ্গের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আজ মমতা ব্যানার্জির তোষন নীতি আর ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির বলি”
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী (ওবিসি) শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে দীর্ঘদিন ধরে। নিজেদের সুবিধামত ক্যাটাগরি পাইয়ে দিয়ে যোগ্যদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের শংসাপত্র পাইয়ে দেওয়ার খেলা চলছে বলে অভিযোগ।
তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের কোটা কেটে মুসলিম সম্প্রদায়কে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরব হচ্ছে বিজেপি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি। এই সংক্রান্ত মামলা এখন আদালতের বিচারাধীন। এই বিতর্কের মাঝেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুর ব্লকের ঈশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান খুকুরানি মণ্ডল ঘোড়ুইয়ের বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্র’ ব্যবহার করে পঞ্চায়েতের সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি রণজিৎ রক্ষিত বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং অনান্যদের মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার রায় এবং তমলুকের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা আদালতের অর্ডার শিটের কপি এক্স-এ শেয়ার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাঁর প্রশাসন ওবিসি সার্টিফিকেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার করার চক্রান্ত বরাবরই করে এসেছেন। এই অপব্যবহারের নিদর্শন আবারও প্রকাশ্যে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্র দাখিল করে ওবিসি সংরক্ষিত আসনগুলিতে অবৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছেন যার জ্বলন্ত উদাহরণ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুর ব্লকের ঈশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রীমতী খুকুরানি মণ্ডল ঘোড়াই। তিনি ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্র দাখিল করে ওবিসি সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন প্রধানের পদই শুধু নয়, পঞ্চায়েত সদস্যের পদও তিনি খোয়াতে চলেছেন।” সেই সঙ্গে নিজের অভিযোগের সপক্ষে কয়েকটি প্রমাণপত্র পোস্ট করেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারী বিচারপতি অমৃতা সিনহার পর্যবেক্ষণ ছিল, যে প্রার্থীর পক্ষে ওবিসি শংসাপত্র জারি করা হয়েছিল তিনি আসলে উক্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত কিনা তা অনুসন্ধান করা হয়নি। আবেদনকারী এবং বেসরকারী বিবাদীকে শুনানির সুযোগ দিয়ে বেসরকারী বিবাদীর যথাযথ শ্রেণী নির্ধারণের জন্য এসডিওকে পুনরায় তদন্ত পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর গত ২৩ জুলাই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নির্দেশে বলা হয়েছে, “পূর্ববর্তী সকল শুনানির তারিখে, খুকুরাণী মণ্ডল ঘোড়ুইকে তার দাবির পক্ষে প্রাসঙ্গিক নথি জমা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি সেই নথি জমা দিতে পারেননি। ২৩.০৭.২০২৫ তারিখে, খুকুরাণী মণ্ডল ঘোড়ুই শুনানির সময় কোনও প্রাসঙ্গিক নথি জমা দিতে পারেননি বা তার দাবির পক্ষে কোনও তথ্য সরবরাহ করতে পারেননি, যদিও তাকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। সকল পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এবং চাঁদিপুরের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের জমা দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পর, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে খুকুরাণী মণ্ডল ঘোড়ুই ওবিসি সম্প্রদায়, উপ-বর্ণ “তান্তি, তান্তুবায়া”-এর অন্তর্ভুক্ত নন।”
তার প্রেক্ষিতে শুভেন্দু দাবি, “এই উদাহরণ হিমশৈলের চূড়া মাত্র। সঠিক নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সারা রাজ্য জুড়ে এমন হাজার হাজার শ্রীমতী খুকুমনি মন্ডল ঘোড়ুই ধরা পড়বেন যারা ভুয়ো শংসাপত্রের অপব্যবহার করে সংরক্ষিত আসনগুলিতে অবৈধ ভাবে নির্বাচিত হয়ে বসে রয়েছেন। এদেরকে এই সব ভুয়ো শংসাপত্র পাইয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন, একেবারে তাঁর অঙ্গুলিহেলনে।
মমতা তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থে ওবিসি শংসাপত্রকে অপব্যবহার করে শুধুমাত্র দলীয় নেতাদের ওবিসি সংরক্ষিত আসন থেকে জিতিয়ে আনা বাদেও মুসলিম সম্প্রদায়কে তোষণ করার অসৎ উদ্দেশ্যে ও ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের স্বার্থে বেআইনিভাবে ওবিসির সমস্ত সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যাতে তারা প্রকৃত ওবিসি তালিকাভুক্ত সম্প্রদায়ের ভাগের সরকারি চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগের ক্ষেত্রে সুবিধা পান।”
অন্যদিকে, আবারও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে ৭ লক্ষেরও বেশি ভোটে জয় পেয়েছিলেন অভিষেক। তৃণমূলের শীর্ষনেতার সেই রেকর্ড মার্জিনে জয় নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী একটি সভায় বলেন, “ডায়মন্ড হারবারে ঘাসফুল ছাড়া আর কোনও প্রতীক খোলা ছিল না। সেলোটোপ লাগানো ছিল। নোটাতেও লাগিয়ে রেখেছিল। ৮ জন করে পোলিং এজেন্ট জাহাঙ্গির বাহিনীর। একজন অফিসিয়ালি তৃণমূলের, আরও ৭ জন ড্যামি।”