তৃণমূলে যোগদান ইস্যুতে বিজেপির কড়া বার্তা, ‘দলবদলুদের জন্য দরজা বন্ধ’— অবস্থান স্পষ্ট করলেন শমীক ভট্টাচার্য ও দিলীপ ঘোষ
শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’ সম্প্রতি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজো সভার টিকিট পাওয়া তিনি প্রাক্তন তৃণমূল নেতার যোগদান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আরো একবার দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্য সভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারবার হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে, তিনি কোনওভাবেই বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেবেন না। কিন্তু তাঁরই হাত ধরে এই তিন নেতার যোগদানে স্বভাবতই দলের আদি কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রচ্ছন্ন ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। আর এই অস্বস্তিকর বিতর্কের মাঝেই ক্ষুব্ধ দলীয় কর্মীদের শান্ত করতে এবং সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে আসরে নামলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, সংসদীয় রাজনীতির ময়দানে ‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে’। অভিজ্ঞতার দাম দিতেই এই তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে ফের সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠাচ্ছে বিজেপি। দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তাঁরা রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন, আবারও সাংসদ থাকতে চান। তাঁরা মোদীজির নেতৃত্বে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি বা অপরাধমূলক মামলা নেই। অতীতে কে কোন দলে ছিলেন, সেই পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে এখন আর লাভ নেই। এখন আমরা তাঁদের নতুন করে কাজের সুযোগ দিচ্ছি।’
রাজ্যসভায় বিজেপিরও দক্ষ ও অভিজ্ঞ মুখের প্রয়োজন বলে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে জানান, ‘যেসব কর্মীরা এটা নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন, তাঁদের বেশি ভাবনাচিন্তা করার দরকার নেই। ওটা আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিক বুঝে নেবে।’

এর পাশাপাশি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে গেরুয়া রং নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেন, ‘আমি চিঠি পড়ছি। শিল্প-সংস্কৃতি জগতের কোনও দখলদারির পক্ষে বিজেপি নয়। তাই এটা হবে না। কেউ-কেউ একটু অতি বিজেপি হয়ে গিয়েছে। তাঁদের পার্টি নিয়ন্ত্রণ করে দেবে। যে যেটা পারেন না, সে সেটা করবেন না। যে যেটা পারেন সে সেইটাই করবেন। আগে অতীতের সরকার কিছু ফেবারিটিজম করেছে। কিন্তু এই সবের পরিবর্তনের জন্যই তো বিজেপি এসেছে। সেই কাজ আমাদের দল শুরু করলে ডিম আমাদের মাথায় পড়বে। আর আমার বয়স হয়েছে, চুল পাতলা হয়েছে, ডিম খেতে আমি রাজি নই। তাই এই কাজ করতে দেব না।’