সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“যেখানে কোনও লড়াই একা লড়া হয় না, আর কোনো স্বপ্নই অধরা থাকে না। এটাই আমাদের সেবাশ্রয় শিবিরের মূল দর্শন।” বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমান্তরাল ভাবে গোটা দেশের মধ্যে নজির তৈরি করে নিজের ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের প্রত্যেকটি এলাকায় যেভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবাকে পৌঁছে দিয়েছেন, তার সুফল প্রাপকদের সঙ্গে দেখা করে এভাবেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে যেখানে এখনো দেশের একটা বড় অংশের মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবার সঠিকভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি সেখানে দাঁড়িয়ে একজন সাংসদ হিসেবে নিজের কেন্দ্রের বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছিলেন সেবাশ্রয় শিবির। ইতিমধ্যেই বিরল রোগাক্রান্ত শিশু থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগরে আসা পুন্যার্থীরাও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সেবাশ্রয় শিবির থেকে চিকিৎসা পেয়েছেন।
২১ বছর বয়সী মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা হাসিবুল গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র মেরুদণ্ডের ব্যথায় ভুগছিলেন। এর ফলে তাঁর বাম পা অসাড় হয়ে যায় এবং তাঁকে সম্পূর্ণরূপে হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। হাসিবুলের সুস্থতার আশা প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। গত ৪ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মণ্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মেটিয়াবুরুজ সফরে গিয়ে হাসিবুলের স্বাস্থ্যের কথা জানতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেবাশ্রয়ের সাথে যুক্ত চিকিৎসকদের হাসিবুলের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরের দিনই হাসিবুলকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মেরুদণ্ডে টিউমার রয়েছে, জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখনই উদ্যোগী হয়ে চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করার ব্যবস্থা করেন, যাতে অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেমে না যায়।

আজ, হাসিবুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “আজ, যখন ওর সামনে দাঁড়ালাম, ওর নিখাদ আনন্দ আর আশা দেখে আমার মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি জন্ম নিল। আমি নিশ্চিত, খুব শীঘ্রই হাসিবুল নতুন শক্তি নিয়ে জীবনের পথে হাঁটবে।বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই সেই অসাধারণ চিকিৎসক দলকে, যাঁদের দক্ষতা ও নিষ্ঠা এই আশাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। হাসিবুলের এই লড়াই শুধু তার ব্যক্তিগত জয় নয়, এটি সেবাশ্রয়ের মূল দর্শনকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে কোনও লড়াই একা লড়া হয় না, আর কোনো স্বপ্নই অধরা থাকে না।”

সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসা করাতে আসা এক প্রবীণ বলেন, “আমাদের অপারেশন খুব সুন্দর ও সফল হয়েছে। আমরা সেবাও ভালো পেয়েছি। যে ডাক্তার দিদিরা অপারেশন করেছেন, খুব সুন্দর করেছেন এবং আমাদের পাশে থেকে সবসময় সবদিকটাই লক্ষ্য করেছেন। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে শোয়া-বসা, সবদিক থেকেই আমরা হাসি মুখে এসেছি আর হাসি মুখ নিয়েই সেবা পেয়ে অপারেশন করে ঘরে ফিরছি।”