সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা । নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ অসুর বিনাশিনী ‘শক্তিরূপেণ’ দেবী দুর্গার। অশুভ শক্তিকে নির্মূল করার মধ্য দিয়ে জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শক্তিরূপে দেবী দুর্গার আগমন যুগে যুগে।
সংস্কৃতে দুর্গা শব্দের অর্থ একটি দুর্গ’ যা এই সত্যকে নির্দেশ করে যে দেবী দুর্গা শক্তি এবং নারীত্বের প্রতীক।
নারীরা চিরকালই সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীরাও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। খেলাধুলার জগত হোক বা বিনোদন বা রাজনীতির ক্ষেত্র— সর্বত্রই নারীর জয়ের পতাকা উড়ছে৷
তাই একেবারে স্কুল স্তর থেকেই মেয়েদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ব্লকের হাসানপুর বিদ্যাধরপুর জুনিয়র হাইস্কুলের এবারের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল “মাতৃরূপেণ সংস্থিতা”।

যেখানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা তথা ভারতবর্ষের যে সমস্ত নারী আপন শক্তিতে নিজেদের পাশাপাশি নারী সমাজকে গৌরবান্বিত করেছেন, তাদের ছবি এবং সাফল্যের ইতিহাস তুলে ধরা হয় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে। যাঁদের মধ্যে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নিজের জায়গা করে নেওয়া প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে বাংলার ইতিহাসে প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয়বার জনগণের অকুন্ঠ সমর্থন পাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মহাকাশচারী কল্পনা চাওলা, প্রথম বিমান চালিকা দুর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রথম ডাক্তার কাদম্বিনী গাঙ্গুলী – সকলের ছবিসহ ইতিহাস ছোট ছোট ছাত্র ছাত্রীদের সামনে অনুপ্রেরণা স্বরূপ তুলে ধরেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে নারী শক্তির জয়গান গাওয়ার জন্য যেখানে স্কুলের বাৎসরিক অনুষ্ঠানের থিম তৈরি করা হয়েছে, সেই ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সোনারপুর ব্লকের বিডিও শিঞ্জিনী সেনগুপ্ত – যিনি নিজেও একজন মহিলা।

এবং অবশ্যই নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন প্রশাসনিক স্তরে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোনারপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রবীন সর্দার, প্রাক্তন প্রধান সীমালতা মন্ডল, শিক্ষাবন্ধু নিমাই মন্ডল, সঞ্জীব কান্ডার, সোনারপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য উত্তম মন্ডল সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

কলকাতার একেবারে উপকণ্ঠে হওয়া সত্বেও সোনারপুর ব্লকের সোনারপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা থাকা সত্ত্বেও পর্যন্ত গোটা পঞ্চায়েত এলাকায় নেই একটিও সরকারি হাই স্কুল। তা সত্ত্বেও এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ছাড়িয়ে হাসানপুর বিদ্যাধরপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অলোক কুমার নায়েক সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।