সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে প্রথম I-PAC নামক সংস্থার হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে ভোটকুশলী সংস্থা হিসেবে কাজ করে সেই সংস্থা। ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পরও একুশের সেই নির্বাচনে রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় ঘাসফুল ফোটাতে কোনও অসুবিধা হয়নি তৃণমূলের।
তারপর সেই সংস্থার সঙ্গে তৃণমূলের অনেক চাপান-উতোর চলেছে। প্রকাশ্যে I-PAC-এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন নেতারা। এবার রাজ্য সম্মেলনে সেই সংস্থার নাম শোনা গেল মমতার মুখে।
আইপ্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের সঙ্গে কয়েকদিন আগেই মমতা বৈঠকের খবর সামনে আসে। এরপরই জল্পনা বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে মমতা যে বার্তা দিলেন, তাতে স্পষ্ট হয়ে গেল ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের সঙ্গেই থাকছে আইপ্যাক।
মূলত ২০২৬-এর ভোটের কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের সব নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এদিন বার্তা দেন মমতা। সেই বক্তৃতার মাঝেই আইপ্যাক-এর কথা শোনা গেল মমতার গলায়। তৃণমূল সুপ্রিমো বললেন, “পিকে (প্রশান্ত কিশোর)-র আইপ্যাক এটা নয়। ওরা একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। এরা একটা নতুন টিম। এদের সহযোগিতা করতে হবে। এদের নামে উল্টোপাল্টা বলা বন্ধ করুন। কাজটা সবাইকে মিলে করতে হবে।”
মাস কয়েক আগেই বিধানসভায় দলীয় বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠকে আইপ্যাক সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন মমতা। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, “প্যাক- ফ্যাক বুঝি না। এসব করে আমার কাছে অনেক ভুল তথ্য এসেছে। এবার থেকে আমার কাছে যে তথ্য আসবে তা দিয়েই দল চলবে।” মমতার সেই মন্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, ওই সংস্থাকে বিদায় জানাবেন মমতা। এর মধ্যে দিন কয়েক আগেই তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, “প্যাকের কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লিন ইমেজে কালি লাগছে।” তবে এবার কর্মীদের নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন সুপ্রিমো।
এদিন তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্টতই বলেন, “ভোটার লিস্ট ক্লিন করতে হবে। একটা এজেন্সি দিয়ে অনলাইনে এই সব কাজ করানো হয়েছে। ওরা একটা বাংলায় এজেন্সি পাঠিয়েছে। এদের অনেক লোক এসেছে। এরা অনলাইনে কারসাজি করছে। ফিল্ড সমীক্ষা করেনি। একই এপিক কার্ডে বাংলায় অন্য রাজ্যের নাম তুলেছে। যাতে বাংলার কেউ ভোট না দিতে পারেন।”

বিজেপিকে ফের ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, “বাংলায় প্রয়োজন হলে আর একটা জাগরণ হবে। সেটা আপনাদের করতে হবে। বহিরাগতদের অতিথি ভাবে বাংলা। কিন্তু দখল করতে দেবে না। এটা বাংলা দখলের খেলা।”