ব্রেকিং
  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • BJP leaders against Dilip : “ত্যাগী থেকে কী ভাবে ভোগী হতে হয়, দিলীপবাবু তার আদর্শ নিদর্শন!” দিলীপকে আক্রমণ সৌমিত্রর, “দিলীপ ঘোষ নন, শুভেন্দু অধিকারীই জননেতা” সাফ কথা অর্জুন সিংয়ের

BJP leaders against Dilip : “ত্যাগী থেকে কী ভাবে ভোগী হতে হয়, দিলীপবাবু তার আদর্শ নিদর্শন!” দিলীপকে আক্রমণ সৌমিত্রর, “দিলীপ ঘোষ নন, শুভেন্দু অধিকারীই জননেতা” সাফ কথা অর্জুন সিংয়ের

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।   দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের দিনে মন্দির পরিদর্শন ও মমতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের পর দিলীপ ঘোষের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপির ছোট বড় নেতারা। আর তাদের পালটা চাঁচাছোলা ভাষায় জবাব দিলেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তাঁদেরই অন্যতম....

BJP leaders against Dilip : “ত্যাগী থেকে কী ভাবে ভোগী হতে হয়, দিলীপবাবু তার আদর্শ নিদর্শন!” দিলীপকে আক্রমণ সৌমিত্রর, “দিলীপ ঘোষ নন, শুভেন্দু অধিকারীই জননেতা” সাফ কথা অর্জুন সিংয়ের

  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • BJP leaders against Dilip : “ত্যাগী থেকে কী ভাবে ভোগী হতে হয়, দিলীপবাবু তার আদর্শ নিদর্শন!” দিলীপকে আক্রমণ সৌমিত্রর, “দিলীপ ঘোষ নন, শুভেন্দু অধিকারীই জননেতা” সাফ কথা অর্জুন সিংয়ের

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।   দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের দিনে মন্দির পরিদর্শন ও মমতার সঙ্গে তাঁর....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

 

দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের দিনে মন্দির পরিদর্শন ও মমতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের পর দিলীপ ঘোষের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপির ছোট বড় নেতারা। আর তাদের পালটা চাঁচাছোলা ভাষায় জবাব দিলেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।

তাঁদেরই অন্যতম দলের বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তীব্র শ্লেষের সুরে সৌমিত্র বলেছিলেন, “ত্যাগী থেকে কী ভাবে ভোগী হতে হয়, দিলীপবাবু তার আদর্শ নিদর্শন!” জবাবে বৃহস্পতিবারই দিলীপ বলেছিলেন, “যারা চারটে বিয়ে করে ১৪টা গার্লফ্রেন্ড রাখে, তারা দিলীপ ঘোষের ক্যারেক্টর সার্টিফিকেট দিচ্ছে, আহাম্মক, কোথাকারের!”

এখানেই না থেমে শুক্রবার সকালে আরও সুর চড়িয়েছেন দিলীপ। সরাসরি সৌমিত্রর নামোল্লেখ করে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেন, “সারা রাত কারুর সঙ্গে বিছানায় কাটিয়ে সকালে গঙ্গাস্নান করে বলছে আমি সতী! সৌমিত্র খাঁ এঁটকাঁটা খেয়ে জীবন কাটিয়েছে। সেও নেতা! তার কথার কি গুরুত্ব? সে পরশু শুভেন্দু অধিকারীকে গালাগাল দিয়েছে। কাল সুকান্ত মজুমদারকে গালাগাল দিয়েছে। ওর বাপ কে? ওকে জিজ্ঞাসা করুন। এরকম অনেক নেতাকে আমরা বাড়িতে পুষে রেখেছি! কাল যদি পোষা বন্ধ করি সব ওই দিকে লাইন লাগাবে। তারা বিজেপির পোষ্য!”

 

দিলীপ ঘোষ বলেন, “এরাই বিজেপির বোঝা এখন। এদের বইতে গিয়েই আমাদের কর্মীদের কোমর ভেঙে যাচ্ছে। আমি আজও একজন সাধারণ কর্মীর বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করছি। এটা হজম হবে না কারও। যারা পার্টিকে ব্যবসা হিসাবে নিয়েছে তারা বিজেপি বুঝতে পারবে না। পার্টি যখন ছোট ছিল কেউ আসেনি। পার্টি ছোট হোক বড় হোক, জিতুক বা হারুক, দিলীপ ঘোষ আছে। তার পুরনো কর্মীরা আছে। যারা ডজন ডজন কেস খেয়েছে। আমিও ডজন ডজন কেস খেয়েছি। কালো পতাকা দেখানো হয়েছে। রোজ গাড়ি ভাঙা হয়েছে। মার খেয়েছি। বাকিদের গায়ে চোট লাগেনি, একটা কেসও খায়নি। বিজেপিটা কষ্ট করে বুঝতে হয়।”

 

দলবদলকারী নেতাদের তাঁর কটাক্ষ, “যখন দরকার হয় টিকিট নিতে এদিকে আসেন। সম্পত্তি, কারখানা বাঁচাতে আবার ওদিকে চলে যান। দিলীপ ঘোষ কখনও পিঠ দেখায়নি। বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র চোখে চোখ রেখে কথা বলার ক্ষমতা ছিল। ওরা পিছনের দিকে লড়াই করেছে, পয়সা কামিয়েছে। যখন অসুবিধা হয়েছে বিজেপিতে এসে গিয়েছে। আবার তৃণমূলে ফিরে গেছেন। পার্টি আপনাদের সব দিয়েছে। আপনারা বিজেপিকে কী দিয়েছেন?”

 

এমনকী বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করে দিলীপবাবু বলেন, “কিছু লোক আছে পার্টিকে কব্জা করতে এসেছে। নতুন নতুন বিজেপি হয়েছে তারা একটু ঝামেলা করার চেষ্টা করে। এটা হবে না। আমরা রক্ত দিয়ে ঘাম দিয়ে পার্টি দাঁড় করিয়েছি। লক্ষ লক্ষ কর্মী বাড়িতে বসে আছে। এরাই কাজ করতে দিচ্ছে না। হঠাৎ বিজেপি যারা, হঠাৎ এসেছে, হঠাৎ যাবে। আমি গর্তে কার্বোলিক অ্যাসিড দিয়ে দিয়েছি, তাই সাপ খোপ ব্যাং সব বেরিয়ে পড়েছে। ওপরটা গেরুয়া, একটু আঁচড়ে দিন দেখবেন সবুজ বেরোবে।”

 

জবাব দিয়েছেন দলের কলকাতার কাউন্সিলর সজল ঘোষ এবং ব্যারাকপুরের নেতা অর্জুন সিংয়ের প্রতিক্রিয়ারও। দিঘায় যাওয়া নিয়ে টিপ্পনি কেটে সজল বলেছিলেন, দিলীপ ঘোষ এখন কুণাল ঘোষের বেশি ঘনিষ্ঠ! দিলীপের সাফ কথা, “কেন সজল আমার ঘনিষ্ঠ নয়? আমার সঙ্গে কুণাল ঘোষ ফটো তোলে। সজল ঘোষও ফটো তোলে। আমি সবাইকে ঘনিষ্ঠ মনে করি। কেউ যদি সময় সময় আমার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায় সেটা তার ব্যাপার। আমার কাউকে নিয়ে কোনও অ্যালার্জি নেই।” একই সঙ্গে এও বলেন, “কে চোর, কে ডাকাত সেটা নিয়েও আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। যারা কাল পর্যন্ত চোর ডাকাতের সঙ্গে ছিল তারা আজ সতী হয়ে যাচ্ছে। দিলীপ ঘোষ যাকে একবার বন্ধু মনে করে তাকে শেষ দিন পর্যন্ত বন্ধু মনে করে। কাল যারা তৃণমূলে শত্রু ছিল তারা বন্ধু হয়েছে। আমি তাদের বন্ধু বলেই মনে করি।”

সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের অবস্থা প্রদেশ কংগ্রেসের প্রয়াত নেতা সোমেন মিত্র এবং শিখা মিত্রর মতো হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। অর্জুন সিং বলেন, “দিলীপ ঘোষ জননেতা নন। শুভেন্দু অধিকারীই জননেতা। উনি নিজেকে বিজেপি নেতা প্রমাণ করতে চাইছেন। ওঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফুল-মিস্টি পাঠাচ্ছেন আর আমাদের নামে ১৮৪ টা কেস হচ্ছে আমরা বিজেপি করি বলে।” অর্জুন প্রশ্ন তোলেন কে বেশি বিজেপি তা নিয়েও। সঙ্গে নিজের একাধিকবার দল-বদলের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, “উনি বিজেপি-র বেশি ক্ষতি করেছে। আমি অস্বীকার করি না আমি একসময় তৃণমূল করতাম। কিন্তু আমি সেই তৃণমূল করতাম যখন এই দল এক সময় সিপিএম-এর হয়ে লড়ত। আমার নামে ১৭৬টা মামলা কেন? উনি তৃণমূলের দালালি করেন বলেই নোটিস আসছে না। আমাদের নোটিস আসে কারণ তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছি। কে লড়ছে মানুষ দেখছি। আগামী দিনে ওঁর যা কেচ্ছা করবে বাংলার মানুষ ওঁকে ঘৃণা করবে।”

 

অতীতে অর্জুন তৃণমূলে ছিলেন, সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলীপের চাঁচাছোলা জবাব, “আমি ২০১৫ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লড়াই করছি। তখন এই নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোলে খেলা করতেন। তার বাড়িতে গিয়ে উচ্ছিষ্ট খেতেন। বাড়ির সামনে লাইন দিয়ে বসে থাকতেন। এখন হঠাৎ বিজেপি হয়েছেন। এরকম যারা হঠাৎ বিজেপি হয়ে লাফাচ্ছেন, তারা সকালে বিজেপিতে প্রাতরাশ করেন। তৃণমূলের বাড়িতে লাঞ্চ করেন। আবার রাতে বিজেপিতে ফিরে এসে ডিনার করেন!” অর্জুনের উদ্দেশে তীব্র শ্লেষের সুরে এও বলেন, “কারুর টিকিট চলে যেতে বা চাকরি চলে যেতে একেবারে ইঁদুরের মতো হুহু করে বিজেপি ছেড়ে চলে গেছিল। আবার হাওয়া ঘুরতে হুহু করে ফিরে আসছে। তারা যেন দিলীপ ঘোষের ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট না দেয়।”

 

দিলীপ সাফ বলেন, “আমি এখন দলে চার আনার ফ্রি মেম্বার। কোনও পদ নেই। তবু লোকে আমাকে নেতা মনে করে, তাই আমার সঙ্গে ঘোরে। কারুর দম আছে জঙ্গিপুর গিয়ে সভা করার? দিলীপ ঘোষ করে এসেছে। কে আসল হিন্দু নেতা সেটা পাবলিক জানে। রাতারাতি হিন্দু নেতা হতে যেও না। হিন্দুত্ব সবাইকে ফিট করে না।”

এর পরেই দিলীপ বিজেপির রাজনৈতিক সৌজন্যের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ”আমি সেই পার্টি করি, যে পার্টির প্রধানমন্ত্রী (অটলবিহারী বাজপেয়ী) কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন। মমতা তখন আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আজ শত্রু হয়েছেন বলে মানি না।” এর পরে নওয়াজ় শরিফের নাতনির বিয়েতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাকিস্তান যাওয়ার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। দিলীপ এ-ও জানিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কোনও ‘প্রোটোকল’ না মেনেই নওয়াজ়ের নাতনিকে বিয়েতে আশীর্বাদ করে এসেছিলেন। কারণ, এটাই বিজেপি। এর পরেই কটাক্ষের ধার বৃদ্ধি করে দিলীপ বলেন, ”যাঁরা ২০২১ সালে এসেছেন, তাঁরা বিজেপি নিতে পারবেন না।”

 

আজকের খবর