জোকা IIM Calcutta-র চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ-কাণ্ডে বড় মোড়। অভিযুক্ত পড়ুয়া পরমানন্দ তোপ্পাওয়ারকে জামিন দিল আলিপুর পুলিস আদালত। ৫০ হাজার টাকার বন্ড ও একাধিক শর্তে এই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। মামলার গতি-প্রকৃতি এবার নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে, কারণ অভিযোগকারিণী রহস্যজনকভাবে তদন্তকারীদের সামনে আসতে অস্বীকার করেছেন।
কেন জামিন পেল অভিযুক্ত?
আদালতে স্পষ্ট জানানো হয়, তিনবার নির্যাতিতাকে আদালতে হাজির করার জন্য সময় নির্ধারণ করা হলেও তাঁকে আনা সম্ভব হয়নি। এমনকি গোপন জবানবন্দি নেওয়ার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না।
জামিনের শর্তাবলী:
নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
রাজ্য ত্যাগ করলে আগে অনুমতি নিতে হবে।
তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
অভিযোগকারিণীর উপর কোনও রকম প্রভাব বিস্তার করা চলবে না।
তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
কি ছিল অভিযোগ?
১২ জুলাই, জোকা IIM-এর বয়েজ হস্টেলে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, অভিযুক্ত পড়ুয়া তরুণীকে কাউন্সেলিং-এর নাম করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর নিজের রুমে নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে মাদক মিশিয়ে তাকে আচ্ছন্ন করে ধর্ষণ করা হয়। মারধরের অভিযোগও ছিল।
তরুণী নিজে প্রথমে ঠাকুরপুকুর থানায় অভিযোগ করেন, পরে তাঁকে হরিদেবপুর থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। তবে তদন্ত চলাকালীন আচমকাই নির্যাতিতা আর কোনও সহযোগিতা করেননি, এমনটাই জানায় পুলিস।
বাবার বয়ানে চমক: ধর্ষণই হয়নি?
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, নির্যাতিতার বাবা জানান, তাঁর মেয়ে কখনও ধর্ষণের শিকার হয়নি। তিনি বলেন, “মেয়েকে বলা হয়েছিল এই বয়ান দিতে। আমি মেয়েকে এসএসকেএম হাসপাতালে পাই, যেখানে সে মানসিক চাপে ছিল।” এরপর থেকেই তদন্তে নির্যাতিতা কোনওভাবে সহযোগিতা করেননি।
রাজনৈতিক চর্চা ও জনমানসে প্রভাব:
এই ঘটনা ঘিরে প্রথম দিকে রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল প্রতিক্রিয়া হয়। বিরোধীরা মুখ খুললেও, মামলার অগ্রগতি ও নির্যাতিতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমানসে। সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক।
IIM Calcutta rape case নিয়ে মামলা এখনও আদালতের পর্যায়ে। অভিযুক্ত পড়ুয়া শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেও, অভিযোগকারিণীর আচরণ ও তদন্তে অনুপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আদৌ কি সত্যি ধর্ষণ হয়েছিল, না কি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত চক্রান্ত? তদন্তের ভবিষ্যৎ বলবে শেষ সত্য।