কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা হল। ৩৮ বছর পর প্রথমবার, উত্তর-দক্ষিণ মেট্রো করিডরে (ব্লু লাইন) স্টিলের তৃতীয় রেল (third rail) সরিয়ে বসানো হল শক্তিশালী ও বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী অ্যালুমিনিয়াম তৃতীয় রেল।
এই পরিবর্তনের ফলে বছরে প্রতি কিলোমিটারে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং প্রায় ৮৪% শক্তি ক্ষয় রোধ করা যাবে। এখন কলকাতা মেট্রোও পৌঁছে গেল সিঙ্গাপুর, লন্ডন, মস্কো, বার্লিন, মিউনিখ ও ইস্তানবুলের মতো শহরের মেট্রোর সারিতে, যেখানে ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তি চালু হয়েছে।
Phase-I-এ মোট ১৯.৬ কিমি অ্যালুমিনিয়াম তৃতীয় রেল বসানো হয়েছে — শ্যামবাজার থেকে মহানায়ক উত্তমকুমার (ডাউন লাইন) ও শ্যামবাজার থেকে পার্ক স্ট্রিট (আপ লাইন)। এই কাজ রাতের ‘নন-কমার্শিয়াল আওয়ারে’ সম্পন্ন হয়েছে, যাতে দৈনন্দিন যাত্রী পরিষেবায় কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।
মূল অ্যালুমিনিয়াম তৃতীয় রেল জার্মানির হামবুর্গ বন্দর থেকে জলপথে কলকাতায় আনা হয়। ২০২৪ সালে এর প্রথম চালান আসে। Phase-II এর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই নতুন তৃতীয় রেলের সুফল:
-
কম ভোল্টেজ ড্রপ, ফলে ট্রেন দ্রুত গতি তুলতে পারবে
-
ট্রিপ টাইম কমবে, ফলে পিক আওয়ারে কম সময়ে বেশি ট্রেন চালানো যাবে
-
বছরে ৫০,০০০ টন কার্বন নির্গমন হ্রাস
-
মেট্রোর অপারেশন খরচ কমে যাবে, তিন বছরের মধ্যে বিনিয়োগ উঠে আসবে
-
অ্যালুমিনিয়াম রেল কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন করে এবং ওয়েল্ডিং ছাড়াই সংযোগ সম্ভব
এই প্রকল্পের নেতৃত্বে ছিলেন:
-
ডেপুটি চিফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (রক্ষণাবেক্ষণ) শ্রী সুমিত কায়াল
-
সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার শ্রী অভিষেক বর্মা
প্রতিদিন ১৫০-২০০ শ্রমিক এই কাজের জন্য নিযুক্ত ছিলেন, যাতে সকালবেলা ট্র্যাফিকে কোনও সমস্যা না হয়।
নতুন রেল বসানোর ধাপগুলিতে ছিল:
-
নির্দিষ্ট উচ্চতায় নতুন কংক্রিট পেডেস্টাল তৈরি (M65 গ্রেড)
-
পুরনো স্টিল রেল কেটে ফেলা ও নতুন GRP ইনসুলেটর বসানো
-
নতুন অ্যালুমিনিয়াম রেল স্থাপন, ইন্টারকানেকশন কেবল সংযোগ
-
সমস্ত ফাস্টেনার ও শ্ৰাউড বোর্ড বসানোর পর ট্রায়াল রানে সফলতা
গরম ও আর্দ্র কলকাতার টানেলে এই প্রযুক্তি শীতল পরিবেশ রক্ষা করতেও সহায়ক হবে, ফলে যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য ও কর্মীদের নিরাপত্তা আরও বাড়বে।