সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
এক দফায় বাংলা দুর্গাপূজা কমিটি গুলিকে দেওয়া সরকারি অনুদানের টাকা ২৫ হাজার করে বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্গা পুজোর সমন্বয় এবং প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, এবার ৫ অক্টোবর হবে পুজো কার্নিভাল। ২,৩,৪ বিসর্জনের দিন ধার্য করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এবার ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে প্রত্যেক পুজো কমিটিকে দেওয়া হবে। জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। গত বছর যে অঙ্কটা ৮৫ হাজার ছিল, এবার তা মুখ্যমন্ত্রী বাড়িয়ে করলেন ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এবার বিশ্ব কর্মা পুজো আর দুর্গা পুজোর মধ্যে ৪ দিনের তফাৎ। তাই মোবাইল ইলেকট্রনিক টিম, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন, সিসিটিভি সব তৈরি থাকবে আগে থেকে।
পুলিশ কন্ট্রোল রুম থাকবে। মেয়েদের নিরাপত্তায় যেন কোনও ঘাটতি না হয়, সেদিকে বেশি করে নজর দিতে হবে। বাচ্চা এবং বয়স্কদের জন্য স্পেশাল কেয়ার রাখতে হবে। ভিড় এড়াতে সেপারেট এন্ট্রি, সেপারেট এক্সিট করতে হবে।
আগুন নেভানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্যান্ডেলের ভিতরে এবং বাইরে যেন পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে। পুজো প্যান্ডেলে কে কী করবেন আর কে কী করবেন না, সেই তালিকা রাখবেন। দুর্গা পুজোর সময় ভিড়ের কথা মনে রেখে, পরিবহণ দফতরকে আরও বেশি করে গাড়ি চালাতে হবে।
দুর্গা পুজোর সময় পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও সচল রাখতে হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেষ করে লোকাল ট্রেন এবং মেট্রো যাতে বেশি সময় ধরে চলে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। আমি তো মহালয়ার আগে থেকে পুজো উদ্বোধন শুরু করি।
তাই পুলিশকে আরও বেশি করে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই ভিড়ের প্রতিযোগিতা করবেন না। শুধু ববি, অরূপের পুজো দেখাতে হবে, এমন নয়।
তাই সবার পুজো দেখান। ভিড়ের জন্য যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করুন। বিসর্জনের জায়গায় আলোর ব্যবস্থা যেন থাকে। জরুরি অবস্থা হলে, তার জন্য তৈরি থাকতে হবে।
জরুরি অবস্থা তৈরি হলে, ডাক্তার, নার্সদের তৈরি থাকতে হবে। আইন মেনে প্রশাসনকে সাহায্য করুন। এসবের পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের কথাও পুজো সম্মন্বয়ের মঞ্চ থেকে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁরা অত্যাচারিত হয়ে জেলায় ফিরে আসছেন, তাঁদের দিকে খেয়াল রাখুন। সবকিছু ছেড়ে যাঁরা ফিরে আসছেন, তাঁদের সাহায্য করুন। প্রয়োজনে তাঁদের জামা কাপড় কেনার ব্যবস্থা করে দিন। বললেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে বিজেপি নেতারা বিভিন্ন সময় বাংলায় দুর্গাপুজো এবং সরস্বতী পূজায় বাংলার সরকার বাধা দেয় বলে যে অভিযোগ তুলে তাকে নস্যাৎ করে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেউ কেউ বলেন, মমতাজি তো দুর্গাপুজো করতে দেন না, উনি তো সরস্বতী পুজো করতে দেন না।.. আরে, এখানে তো ঘরেঘরে সরস্বতী-লক্ষ্মী পুজো হয়। গণপতির পুজোও এখানে হয়। এমন কোনও উৎসব নেই যে এখানে হয় না। আমি যখন দুর্গা পুজোর বিষয়ে মিটিং করি, তখন কেউ কেউ কোর্টেও চলে যায়। কেউ কেউ বলে, কেন ওদের সাহায্য করা হবে ? আরে ভাই এটা একটা উৎসব, তারা পুজোটা করে , বিনিময়ে কত মানুষ শ্রমজীবী মানুষ সেখানে কাজ কর্ম করে। আজকে ছয় মাস ধরে পাড়ার ছেলেমেয়েরা, ঘরবাড়ির কাজ ছেড়ে, কী থিম হবে কখন কী করবে, কী করে এই পুজোটার সাফল্য মণ্ডিত করবে.. একটা পুজো যেই শেষ হয়ে যায়, তখনই তাঁদের থিম শুরু হয়ে যায়। এবং তারপরে তাঁরা এটা মনপ্রাণ দিয়ে করে।..আমাদের এই বাংলাতে বড় ক্লাব,মাঝারি ক্লাব, ছোট ক্লাব নিয়ে ৪৫ হাজার পুজো হয়। রাজ্য পুলিশ এলাকায় ৪২ হাজারের বেশি, কলকাতা পুলিশ এলাকায়, প্রায় ৩ হাজারটি। এছাড়া এর মধ্যে মহিলা পরিচালিত পুজোও আছে, বাড়ির পুজোও আছে।”