পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাহল ও মাল্টিপ্লেক্সগুলির জন্য এ বার কঠোর নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর জানিয়েছে— প্রতিদিন প্রাইম টাইমে অন্তত একটি বাংলা ছবি দেখানো বাধ্যতামূলক।
‘প্রাইম টাইম’ বলতে দুপুর ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময়কে ধরা হয়েছে।
এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে জারি হওয়ার মুহূর্ত থেকেই এবং নতুন কোনও আদেশ না আসা পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। নবান্ন জানিয়েছে, ১৯৫৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র আইন অনুসারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনের সংশোধনও করা হবে।
৩৬৫ দিন বাংলা ছবির জন্য স্ক্রিন বরাদ্দ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী—
রাজ্যের প্রতিটি সিনেমাহল ও মাল্টিপ্লেক্সের প্রতিটি স্ক্রিনে
সারা বছর ৩৬৫ দিন
দুপুর ৩টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে অন্তত একটি বাংলা ছবি দেখাতেই হবে।
এটি শুধু একদিনের অনুষ্ঠান বা বিশেষ সপ্তাহ নয়, বরং সারাবছরের জন্য প্রযোজ্য।
ভাষা ও সংস্কৃতির রাজনীতির সঙ্গে যোগ
সম্প্রতি বাংলা ভাষা ও বাঙালি পরিচয় রাজ্যের রাজনীতিতে অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। দেশের নানা প্রান্তে বাংলাভাষীদের উপর বৈষম্য ও নিগ্রহের অভিযোগ বাড়তে থাকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ভাষা রক্ষার ডাক দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন— “বাংলায় প্রতিভা আছে বলে বাংলার মানুষের উপর অত্যাচার মেনে নেওয়া হবে না।” পাশাপাশি বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা প্রশ্ন তুলেছেন— “বাঙালি যখন ইংরেজের বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?”
এই প্রেক্ষাপটে বাংলা ছবিকে প্রাইম টাইমে বাধ্যতামূলক করার পদক্ষেপকে অনেকে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
আগের উদ্যোগ ও বর্তমান সিদ্ধান্ত
এর আগে কলকাতা পুরসভা শহরের দোকান ও প্রতিষ্ঠানে বাংলায় লেখা সাইনবোর্ড বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। এবার সিনেমা হলে বাংলা ছবির জন্য সময় বরাদ্দ করে প্রশাসন দেখিয়ে দিল যে ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে তারা আরও সক্রিয় হচ্ছে।
সিনেমা হলে প্রভাব
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে—
1. বাংলা ছবির চাহিদা বাড়বে: নির্মাতাদের জন্য বড় বাজার তৈরি হবে।
2. নতুন প্রযোজকদের উৎসাহ: স্থানীয় ভাষায় বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে।
3. প্রাইম টাইমে প্রতিযোগিতা: বড় বাজেটের হিন্দি ও ইংরেজি ছবির সঙ্গে বাংলা ছবির সরাসরি প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।
তবে, মাল্টিপ্লেক্স মালিকদের একাংশের আশঙ্কা— দর্শক চাহিদা কম হলে ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে।
বিনোদন ও সাংস্কৃতিক দায়িত্বের মেলবন্ধন
সরকারের যুক্তি— বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে প্রাইম টাইমে প্রদর্শন করলে দর্শকের কাছে বাংলা কন্টেন্ট আরও সহজলভ্য হবে। এর ফলে তরুণ প্রজন্মও বাংলা সিনেমার প্রতি আগ্রহী হতে পারে।