সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বিহারের পর আগামী বছর বাংলায় রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। তবে ভোটের আগে এসআইআর প্রক্রিয়া আবশ্যিক, তা আগেই স্পষ্ট করেছিলেন নির্বাচন কমিশন। যদিও এই এসআইআর নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। বিরোধীদের দাবি, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে ভোট চুরি করতে চাইছে বিজেপি। অন্যদিকে কমিশনের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুয়ো ভোটার সনাক্ত করা হচ্ছে।
এছাড়া মৃত ভোটার বা যারা ওই কেন্দ্রে থাকেন না, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বের করার জন্যই শুরু হয়েছে এই প্রক্রিয়া। এই নিয়ে দুই পক্ষের সংঘাত চরমে। তার মধ্যেই বিহার এসআইআর প্রক্রিয়া আপাতত শেষের দিকে। এরপরেই বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
বাংলায় এসআইআর নিয়ে মন্তব্য জ্ঞানেশ কুমারের
এই মুহূর্তে গোটা ভারতবর্ষ তোলপাড় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ইস্যুতে। লাগাতার এই বিষয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে চলেছেন বিরোধীরা। যদিও এর মাঝে একটি প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছিল যে বাংলায় কবে হবে এসআইআর। এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তরফ থেকে।
যদিও ঠিক কবে থেকে এসআইআর শুরু হবে, সেটা নিশ্চিতভাবে এখনও বলেননি নির্বাচন কমিশনার। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, “আমরা তিন কমিশনার বৈঠক করে জানাতে পারব কবে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হবে। আগামী দিনে যে রাজ্যেই এসআইআর হবে, সেই সংক্রান্ত দিনক্ষণ বৈঠকের পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”। কমিশন সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, চলতি বছরে শেষের দিকে এই রাজ্যে হতে পারে এসআইআর। যদিও এদিন সেই জল্পনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি জ্ঞানেশ কুমার।
রবিবার দিল্লির ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যেও হবে এসআইআর, কবে হবে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
বিহারে এসআইআর-এর পর এটিই প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন নির্বাচন কমিশনের। জ্ঞানেশ কুমার এদিন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের দরজা সর্বদা সকলের জন্য সমানভাবে খোলা। যখন বিহারের সাত কোটিরও বেশি ভোটার নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, তখন নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা অথবা ভোটারদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় না।
জ্ঞানেশ কুমার আরও বলেছেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের সংবিধান অনুসারে, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরা এমপি এবং এমএলএ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। অন্যান্য দেশের মানুষের সেই অধিকার নেই। যদি এই ধরনের ব্যক্তিরা গণনা ফর্ম পূরণ করে থাকেন, তাহলে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন, তাদের কিছু নথি জমা দিয়ে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। তদন্তের পর তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

এদিন নির্বাচন কমিশনারদের বৈঠকটি ছিল মূলত বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য। সেই সঙ্গে রাহুল গান্ধীদের মতো বিরোধী নেতারা যেভাবে কমিশনকে আক্রমণ করেছে, ভোট চোরের তকমা লাগিয়েছে, সেই সংক্রান্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিতেই এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।