প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NKDA) এবার আবর্জনা সমস্যার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল। খালি জমিতে আবর্জনা ফেললে এখন থেকে দিতে হবে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
আগস্ট ২০২৫-এর শুরুতেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় এবং ইতিমধ্যেই নিউটাউনের বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে Garbage Display Boards।
এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি জায়গায় এই সাইন বোর্ড বসানো হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে— “এখানে আবর্জনা ফেলবেন না, নইলে জরিমানা”।
🚮 কেন এই সিদ্ধান্ত?
এনকেডিএ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা জমি ও পরিত্যক্ত জায়গায় অবৈধভাবে আবর্জনা ফেলার অভিযোগ আসছিল। শুধু অভিযোগই নয়, এনকেডিএ কর্মকর্তারা নিজেরাও এই সমস্যা চাক্ষুষ করেছেন। আবর্জনার কারণে শুধু এলাকার সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছিল না, বরং সেগুলোতে জমে থাকা নোংরা জল হয়ে উঠছিল ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার আঁতুড়ঘর। তাই জনগণের অসচেতনতার বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
📢 সচেতনতা থেকে শাস্তির পথে
এর আগে এনকেডিএ একটি WhatsApp Helpline Number চালু করেছিল, যেখানে ছবি ও লোকেশনের তথ্য পাঠালেই সাফাই কর্মীরা গিয়ে পরিষ্কার করতেন। একইসঙ্গে চালানো হয়েছিল ৭ দিনের ক্লিনিং ড্রাইভ। কলকাতা পুরসভা এবং NKDA যৌথ উদ্যোগে বর্ষার আগে এই বিশেষ অভিযান চলে। তবে সমস্যা থেকে যায় একই জায়গায় বারবার আবর্জনা ফেলার কারণে।
🏙️ কলকাতা পুরসভার অবস্থাও একই
কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে রয়েছে প্রায় ৭৪২০টি খালি জমি, যার মধ্যে ১৮২৩টি “স্পর্শকাতর” বলে চিহ্নিত। এসব জায়গা পরিষ্কার করার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের নোংরা হয়ে যাচ্ছে। একই সমস্যা দেখা দিয়েছে ৪০৭০টি পুকুরের ক্ষেত্রেও, যার মধ্যে প্রায় ৬৭৩টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। পুরসভার একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, এক লরি বর্জ্য ধাপায় নিয়ে যেতে খরচ হয় প্রায় ₹১৭০০ টাকা। একই জায়গা বারবার পরিষ্কার করতে গিয়ে ব্যয় বাড়ছে বিপুলভাবে।
⚖️ জরিমানাই একমাত্র সমাধান
পুরসভার অনেক আধিকারিকের মতে, যত প্রচার বা প্রচেষ্টা চালানো হোক না কেন, জরিমানা চালু না করলে নাগরিক উদাসীনতা বন্ধ করা যাবে না। সেই কারণে NKDA-র এই পদক্ষেপকে অনেকেই যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে মনে করছেন। কারণ, কঠোর আর্থিক শাস্তি ছাড়া নগরবাসীর আচরণে পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব।