শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
কৃষ্ণনগর থেকে বাংলার কুড়ি হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তাশ্রী এবং পথশ্রী-র অধীনে। কৃষ্ণনগরে জনসভার আগেই পতাকা নেড়ে প্রকল্পের সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গ্রামীণ ও শহরকেন্দ্রিক মিলিয়ে ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা তৈরি করবে রাজ্য সরকার। রাজ্যের কোষাগার থেকে এই প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। গ্রামীণ ও শহরকেন্দ্রিক মিলিয়ে ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা তৈরি করবে রাজ্য সরকার। রাজ্যের কোষাগার থেকে এই প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী প্রকল্পকে ঢপশ্রী প্রকল্প বলে আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা লিখেছেন এই প্রকল্পের টেন্ডার-র বাস্তবতা জানান দিচ্ছে যে রাজ্য সরকারের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়েছে।
কিন্তু একই দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ‘ঢপশ্রী’ প্রকল্প বলে আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, ”ঢপশ্রী’ প্রকল্পের টেন্ডার এর বাস্তবতা জানান দিচ্ছে যে এই রাজ্য সরকারের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়েছে।
আজ কৃষ্ণনগরের মঞ্চ থেকে মাননীয়া যতোই হম্বি-তম্বি করুন না কেনো, পথশ্রী প্রকল্পে ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা দূর অস্ত, এই মেয়াদ উত্তীর্ণ সরকারের বিদায় বেলায় সিংহভাগ ঠিকাদার বন্ধুরা ২ কিলোমিটার রাস্তা বানাতেও রাজি হচ্ছেন না !!!’
এর আগে অর্থাৎ বুধবার এই একই ইস্যুতে কার্যত ভবিষ্যৎবাণী করে শুভেন্দু অধিকারী নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘পর্বতের মূষিক প্রসব !!! পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী ❌ মিথ্যাশ্রী ✔️
আগামীকাল, বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর যাচ্ছেন মাননীয়া, পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ দফার কাজের এর ‘শিলা পুঁততে’, একেবারে ২০,০৩০ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শুরু করার অতিরঞ্জিত থুড়ি আজগুবি ঘোষণা করবেন জনসমক্ষে !!!
কৃষ্ণনগর থেকে রিমোট টিপে পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী চতুর্থ পর্যায়ের রাস্তার কাজের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার সংখ্যা, মোট দূরত্ব, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের বিভাজন, কাজের দায়িত্ব কোন দপ্তরের ওপর বর্তাবে ইত্যাদি ঘোষণা হবে…
এই সব ‘তথ্য’ (অলীক সারবত্তাহীন অবাস্তব কল্পকাহিনী) অবশ্য আগামীকাল উদ্বোধনের পূর্বেই সকাল সকাল রাজ্যের খবর কাগজ গুলোয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছাপানো হবে। যেটা উল্লেখ করা থাকবে না, সেই প্রকৃত তথ্য গুলো আমি তুলে ধরলাম:-
* এই পর্যায়ের পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী প্রকল্পের ৮০% টেন্ডার/দরপত্র বাস্তবায়িত হয়নি অথবা ঠিকাদাররা আবেদন জানান নি।
* রাজ্যের কোষাগার (অর্থ দপ্তর) থেকে উক্ত প্রকল্পের জন্যে অর্থ বরাদ্দ করা হয় নি।
* নির্বাচনের এত কাছাকাছি এসে এই বিপুল অর্থের পরিকল্পনা রূপায়ণ করা অসম্ভব, তাই এটা শুধু মাত্র করা হচ্ছে মানুষের কাছে ভুল বার্তা দেওয়ার জন্য, প্রকল্প রূপায়ণ করার যদি সদিচ্ছা থাকতো তাহলে অন্তত আর্থিক বছরের শুরুতে অর্থাৎ বিগত এপ্রিল মাস থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করতো সরকার।
* যিনি দশ বছর আগে থেকেই দাবি করে এসেছেন যে, রাজ্যের ৯৯% কাজ উনি শেষ করে দিয়েছেন, তাহলে নির্বাচনের তিন চার মাস আগে ২০,০৩০ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শুরু করার ঘোষণা করতে হচ্ছে কেনো? তাহলে গত ১৫ বছরে প্রকৃত অর্থে তেমন কোনো কাজ হয় নি, বিশেষতঃ গ্রামাঞ্চলে?
আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কে রয়েছেন, বিদায় আসন্ন, এই সরকারের মেয়াদ আর বড়জোর চার মাস ! মাস দু একের মধ্যে হয়তো নির্বাচনের আদর্শ আচরণ বিধি লাগু হয়ে যেতে পারে। তাই যেনো তেনো প্রকারে মানুষের সামনে ভুয়ো ঘোষণা করতে হবে, কারণ ওনার উন্নয়নের পাঁচালী সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই ‘পথের’ পাঁচালী দিয়ে মন ভোলানোর চেষ্টা করছেন !
আমি আমার সহ নাগরিক ঠিকাদার বন্ধুদের সতর্ক করে আবারও বলতে চাইছি যে, আপনারা ইতিমধ্যেই অবগত এই রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা করুণ, ভাঁড়ে মা ভবানী! বিগত ৫ বছরে আপনাদের কাজ করিয়ে নিয়ে সময়মতো বিল মেটায় নি, তাই আপনারা এই ফাঁদে পা দেবেন না। এই মেয়াদ উত্তীর্ণ, সরকারের যাওয়ার পালা হয়েছে। ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন, পরে যেনো হাত কামড়াতে ও কপাল চাপড়াতে না হয়…’