সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘ইউ মাস্ট রিজাইন। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনি পদত্যাগ করুন। বলছেন, দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জিতবেন। এবার তো বলছেন না, ‘আব কি বার/২০০ পার।’ আমি বলতে চাই, এবার আপনাকে দেশ থেকে বার। আবার বাংলার ক্ষমতায় এসে গণতান্ত্রিকভাবে দেশ থেকে বার করে দেব।’ এভাবেই মঙ্গলবার বাঁকুড়ার সভা মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলায় ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর পর্বে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অমিত শাহ। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে ভোটব্যাঙ্ক বজায় রাখতে অনুপ্রবেশে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাতেই পালটা মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘অনুপ্রবেশ কি শুধু বাংলায় ঘটে? কাশ্মীর বা অন্য কোনও সীমান্ত রাজ্যে হয় না? তাহলে দেশে অনুপ্রবেশ করে পহেলগাঁও হামলা করল চালাল? আপনারা কী করছিলেন?’
বাঁকুড়ার জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা। বাছা বাছা বিশেষণে সরাসরি মোদী, অমিত শাহকে কার্যত তুলোধনা করেন মমতা। মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখান থেকে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ-সহ একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে তোপ দেগেছিলেন শাহ। এরপরেই বাঁকুড়ার বড়জোড়ার জনসভা থেকে শাহ-সহ গোটা বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা এদিন বলেন, ‘বাংলায় একজন দুঃশাসন এসেছেন। ভোট আসলে বাংলায় দুর্যোধন আর দুঃশাসন আসে। শকুনির চ্যালা চামুন্ডারা ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ যদিও এই আক্রমণে কোনও নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
রাজ্যে এখনও পর্যন্ত এসআইআর-এর কারণে ৫৮-৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘ওদের চোখ দেখলেই ভয় করে’। এসআইআর-এ ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেল কেন? তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের সদস্যদের শুনানিতে ডাকা নিয়েও কমিশনকে নিশানা। যাদের নাম বাদ গেছে তাদের ফের আবেদন করার পক্ষে সওয়াল তৃণমূল নেত্রীর। যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের ৭ নম্বর, ৮ নম্বর ফর্ম ফিল-আপ করার আবেদন করেন তিনি। ড্রাফট লিস্টে নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে কোন গ্যারান্টি নেই। ওরা নাম কাটার চেষ্টা করছে।’ অভিযোগ মমতার। ‘এস আই আর করতে ২ বছর লাগে। ভোট আসছে দেখে তড়িঘড়ি ২ মাসে এস আই আর”! কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘ক্ষমতায় আছো বলে এসব করছো, বড়বড় কথা বাংলার মানুষকে শুনতে হবে… রামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দের কথা জানেন…আমি জনতার আদালতে যাবো, আপনাকে দেবে বাংলার মানুষ দেবে ঘেঁচু।’
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অমিত শাহ আরও অভিযোগ করেছেন, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাঁটাতার বসানোর জন্য জায়গা দেয় না রাজ্য সরকার। কিন্তু মমতা পালটা জবাবে বললেন, ‘রায়গঞ্জ, চ্যাংড়াবান্ধা, ঘোজাডাঙায় আমরা জমি না দিলেন কী করে কাজ করতেন? অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়ার দায়িত্ব তো বিএসএফের। তারা কেন রুখতে পারে না?’ এরপরই কার্যত গর্জে উঠে বলেন, ‘ইউ মাস্ট রিজাইন। আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিন।’

১০০ দিনের কাজের নাম বদল নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘বাংলাতেই এবার ১০০ দিনের কাজ দেবে সরকার। আমরা ভিক্ষার দান চাই না। আমরা জীবন চাই আর ওরা চায় মৃত্যু। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, ‘এরা হিন্দু ধর্মকে বিপথে পরিচালিত করে। এরা বিধর্মী’।
ওড়িশায় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় সরব হয়ে বিজেপিকে নিশানা তৃণমূল সুপ্রিমোর। মমতা বলেন, ‘বাংলাতেও দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। অসম, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থানে বাংলা বলায় হেনস্থা করা হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের’।