কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখন গোটা রাজ্য উত্তাল, তখনই সামনে এল এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, সিপিএমের এক প্রভাবশালী জেলা নেতার ছেলে ভুয়ো বিএড সার্টিফিকেট জমা দিয়ে স্কুল শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়েছিলেন। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যে দল নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব, সেই দলের অন্দরেই কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল?
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সুদীপ্ত প্রধান। তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকার একাত্তর হাইস্কুলে কর্মশিক্ষার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাবা মঙ্গলেন্দু প্রধান সিপিএমের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির সদস্য এবং দলের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিমের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। শুধু তাই নয়, মঙ্গলেন্দু প্রধান ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চণ্ডীপুর কেন্দ্র থেকে সিপিএমের প্রার্থীও হয়েছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বসার জন্য বাধ্যতামূলক বিএড ডিগ্রির শর্ত পূরণ করতে সুদীপ্ত প্রধান উত্তরপ্রদেশের মিরাটের একটি কলেজের সার্টিফিকেট জমা দেন। সেই সার্টিফিকেট যাচাই করতে গিয়েই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (ডিআইবি) ভেরিফিকেশনের সময় জানতে পারে, ওই বিএড সার্টিফিকেটটি সম্পূর্ণ ভুয়ো।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মিরাটের মুক্তকেশী মেমোরিয়াল বিএড কলেজে পাঠানো নথির যাচাই রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে—এই নামে বা এই নম্বরের কোনও ডিগ্রি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা হয়নি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে জাল মার্কশিট ও সার্টিফিকেট তৈরি করা হয়েছে। এরপরই চণ্ডীপুর থানায় সুদীপ্ত প্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে প্রায় প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সিপিএম। ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চাকরি পাওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের মামলাতেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল দলটি। সেই প্রেক্ষাপটে সিপিএম নেতার ছেলের বিরুদ্ধে ভুয়ো সার্টিফিকেটের অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অগ্নিশ্বর চৌধুরী জানিয়েছেন, ডিআইবি নিয়মিতভাবে সরকারি কর্মীদের নথি যাচাই করছে। সেই যাচাই প্রক্রিয়াতেই এই অনিয়ম ধরা পড়ে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি জানান, অভিযোগের কথা তারা শুনেছেন এবং দলীয় স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় সিপিএমের “সততার রাজনীতি” নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
২০১৬ সালের এসএসসি কেলেঙ্কারির পর্বে এই নতুন অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে যে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।